বিনোদন ডেস্কঃ বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক। বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক রিয়াজ নামেই পরিচিত। চলচ্চিত্র অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে একজন প্রশিক্ষিত ফাইটার পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

১৯৯৫ সালে ‘বাংলার নায়ক’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। ১৯৯৭ সালে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সফলতা তাকে তারকাখ্যাতি এনে দেয়। দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ১০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

রিয়াজ ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী তিন বোন-কোহিনুর আক্তার সুচন্দা, ফরিদা আক্তার ববিতা ও গুলশান আরা চম্পা তার চাচাতো বোন। মূলত ববিতার হাত ধরেই তিনি বিএফডিসিতে আসেন এবং চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন। ২০০৭ সালে তিনি মডেল মুশফিকা তিনাকে বিয়ে করেন।

রিয়াজ তার ক্যারিয়ারে অভিনেত্রী শাবনূর ও পূর্ণিমার সাথে জুটি বেঁধে একাধিক সুপারহিট ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘মনের মাঝে তুমি’ এবং ‘মোল্লাবাড়ির বউ’।

মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু প্রশংসিত সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘দুই দুয়ারী’ (২০০০), ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭) এবং সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লাবাড়ির বউ’ (২০০৫) এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের বহু জনপ্রিয় নাটকেও তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

অসামান্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ অভিনেতা রিয়াজ ‘দুই দুয়ারী’ (২০০০), ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭) এবং ‘কি যাদু করিলা’ (২০০৮) চলচ্চিত্রের জন্য তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি সাতবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন।

২০০৫ সালে তিনি বিখ্যাত বলিউড পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকরের ‘ইট ওয়াজ রেইনিং দ্যাট নাইট’ চলচ্চিত্রে বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন।

রিয়াজ গত কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত। অভিনয়ের বাইরে তিনি ব্যবসা ও রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলেও আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন, যার ফলে বর্তমানে তার আইনগত জটিলতা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *