
ফুটবল নাকি যুদ্ধ থামিয়ে দেয়! কথিত আছে, ফুটবল গ্রেট পেলে একবার যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিলেন। সেটার সত্যতা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে! তবে এবার সত্যিই যুদ্ধ থামিয়ে দিল ফুটবল! অনিশ্চয়তার কালো মেঘ উড়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে ইরান। অনুশীলনও করেছে মেহেদী তারেমির দল। এখন কেবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার অপেক্ষা। আগামীকাল সকাল ৭টায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইঙ্গলউডের বিখ্যাত সোফাই স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে ইরান। লস এ্যাঞ্জেলেসের এই শহরকে ইরানিদের কাছে মনে হতে পারে তেহরানের মতো! রাস্তায় হাঁটতে গেলেই দেখা হয়ে যেতে পারে নিজ দেশের কোন একজনের সাথে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইরানি অভিবাসীদের বড় একটা অংশ এখানেই থাকেন। এই থাকাটা ইরানের কাছে আশির্বাদই হওয়ার কথা। কিন্তু হয়েছে তার উল্টোটা! নিজ দেশকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানোর বদলে লস এ্যাঞ্জেলসে থাকা ইরানিদের একটা অংশ নাকি বিক্ষোভ করবে নিজেদের শেকড়ের বিপক্ষে! এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে ইরান ফুটবল দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে যুদ্ধই ইরানের নিয়তি হয়ে আছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চোখ রাঙানির মাঝেই কথা আর ময়দানি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। মধ্যখানে কয়েকবার তিন দেশের মাঝে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রত্যেকবারই ব্যর্থ সেইসব উদ্যোগ। রাজনীতির কাছে যেখানে রাজনীতি পরাজিত হয়েছে, দাবার কূটনৈতিক চালও যেখানে ব্যর্থ সেখানে ফুটবলই এসেছে আশির্বাদ হয়ে। ইরান ম্যাচের আগেই এসেছে সুখবর। শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা ঐতিহাসিক সেই চুক্তি। তাই বলাই যায়, ফুটবল বিশ্বকাপই আপাতত যুদ্ধ থামিয়ে নতুন এক ভোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। যেখানে যুদ্ধ থাকবে না, নীরিহ মানুষ হবে না রাজনৈতিক মারনাস্ত্রের শিকার। শুধু থাকবে ফুটবল, যা শান্তির বাণী শুনায়, যুদ্ধ থামিয়ে মানুষকে মাতিয়ে তুলে নির্ভেজাল আনন্দে।
ইরান এর আগে সাতবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে। সাতবারই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়। তবে বিশ্বকাপে তিনটি স্মরণীয় জয় আছে তাঁদের। ২০২২ বিশ্বকাপে ওয়েলসকে ২-০ গোলে, ২০১৮ বিশ্বকাপে মরক্কোকে ১-০ গোলে এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইরান। এবার এশিয়া থেকে সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ইরান বাছাইপর্বে ছিল দুর্দান্ত। ১০ ম্যাচের নয়টিতেই জিতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে এসেছে তাঁরা। বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি জয় থাকলেও কাল ভোরে তাঁদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে এখনো জয়হীন। অবশ্য এর আগে মাত্র দুইবার ফুটবল বিশ্বকাপে খেলেছে রাগবি আর ক্রিকেটের বড় শক্তি নিউজিল্যান্ড। ১৯৮২ স্পেন বিশ্বকাপে অভিষেকের পর দীর্ঘদিনের অপেক্ষা তাঁদের। সর্বশেষ ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলে নিউজিল্যান্ড। ১৫ বছর পর এবার তাঁরা জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। গ্রুপ জি’তে ইরান, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আছে বেলজিয়াম ও মিশর। এই গ্রুপ ইরান, নিউজিল্যান্ডের জন্য কঠিন। তবে যুদ্ধও যাদের ভাঙতে পারেনি সেই ইরানের কাছে কঠিন বলে কি কিছু আছে? বিশ্বকাপ ফুটবলের পরীক্ষায় বেলজিয়াম, মিশর, নিউজিল্যান্ডও তাই উড়ে যেতে পারে প্রিন্স অব পার্সিয়ায়, সিংহের হৃদয়ে!