শাকসুর ২৮ বছরের প্রতীক্ষা

২৮ দিনের স্থগিতাদেশ শেষ হচ্ছে না ৬ মাসে, ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা

২৮ দিনের স্থগিতাদেশ শেষ হচ্ছে না ৬ মাসে, ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা

২৮ বছরের অপেক্ষার সমাপ্তি হবে। দীর্ঘকাল পর নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ভোট দিয়ে প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন। এই আশা নিয়েই অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের এই অপেক্ষা আরো দীর্ঘতর করে হাইকোর্টে মাত্র এক শিক্ষার্থীর রিট। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের মাত্র ১৯ ঘণ্টা আগে ১৯ জানুয়ারি বিকালে ৪ সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিত করে দেয় উচ্চ আদালত। চার সপ্তাহ পেরিয়ে প্রায় ছয় মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এদিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন নির্বাচনের জন্য।

হাইকোর্ট কর্তৃক শাকসু স্থগিত ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্টারকে রাত ১টা পর্যন্ত তালা দিয়ে আটকে রেখে আন্দোলন করেন। এক পর্যায়ে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে তীব্র যানজট তৈরি হয় সড়কে। রাত ১টায় উপাচার্যের আশ্বাসে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আটাশ দিন শেষ হয়ে ৫ মাস ১৯ দিন হয়ে গেলেও শাকসু সফলতার মুখ দেখেনি।

নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণ
১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এর আগে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়ে ইসিতে ১৪ জানুয়ারি আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের অনুমতি দেয়।

ইসির এই অনুমতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে শাকসু ও হল সংসদ স্থগিত চাওয়া হয়। নির্বাচন বন্ধে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন ও অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক। ১৯ জানুয়ারি শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।

স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন
শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহ স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে ঐদিনই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ ও সহযোগিতা না করার ঘোষণা
নির্বাচনের আগের দিন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন ও ইউনিভার্সিটি টিচার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর শাবিপ্রবির সেক্রেটারি (বর্তমান উপাচার্য) অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের শিক্ষকরা। এ সময় শাকসু নির্বাচনের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন তাঁরা। ঐদিনই বিএনপিপন্থী চারজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। অপরদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তিন দফা দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে। এ কর্মসূচীর মধ্যে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের দাবিও ছিল।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের পেছনে ‘উপর মহলের নির্দেশ’ ছিল বলে অভিযোগ করে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাকসুতে জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রসংসদের আয়োজন করে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। শাকসু সেই গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম মাধ্যম।” নির্বাচন স্থগিতের ২৮ দিন পরই প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থী ও অংশীজনকে নিয়ে বৈঠকে বসা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের পর্যায়ে এসেছিল। এখন আবার নির্বাচন আদায়ের জন্য নতুন করে আন্দোলন করতে হলে সেটি অত্যন্ত হতাশাজনক হবে। আগে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবের কথা বলে যারা শাকসু নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন, এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। প্রশাসনের উদ্যোগেই দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা করতে হবে।”

বিএনপিপন্থী শিক্ষক, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং ছাত্রদলের প্রত্যক্ষ মদদে শাকসু স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ তুলে শাবি ছাত্র শিবির সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, “ছাত্রশিবির শাকসু নিয়ে সবার আগে দাবি দিয়েছিল, এখনও সক্রিয় থাকবে ।” তিনি নে করেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম যদি চালু হয় তাহলে চলমান প্রজেক্টে দুর্নীতি, হল দখল, সিট বাণিজ্য ইত্যাদি করতে পারবে না ,যার কারণে শাকসু দিতে ভয় পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।”

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবেই শাকসুর স্থগিতাদেশ আনা হয়েছিল অভিযোগ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শাবি‘র সেক্রেটারি ও শিবির সমর্থিত দুবার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের সমাজসেবা সম্পাদক আজাদ শিকদার বলেন, “যে কারণগুলো দেখিয়ে রিট করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছিল না। তবুও আমরা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছি। কিন্তু স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রশাসন অযৌক্তিকভাবে গড়িমসি করছে এবং নির্বাচন আয়োজনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।”

তিনি আশঙ্কা করে বলেন, বর্তমান প্রশাসন ফ্যাসিবাদী আমলের ধারায় ফিরতে চায়। তারা শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে শাকসু নির্বাচনকে আটকে রাখতে চায় কিছু রাজনৈতিক মহলের সুবিধা নেওয়ার জন্য।”

ছাত্রদল সবসময় ছাত্রসংসদের পক্ষে ছিল উল্লেখ করে শাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি নাঈম সরকার বলেন, “আমরা চাই একটি সুন্দর পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছাত্রসংসদ নির্বাচন হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোল্ডার, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে এর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
স্থগিতাদেশের অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ায় আগের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবতা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহয়ী সারদ। “চার সপ্তাহ পর পরিস্থিতি যেমন থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, ২৪ সপ্তাহ পর সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে কি না এমনটি ধরে নেওয়া কঠিন। তাই সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।”

স্থগিতাদেশের পর প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও নতুন নতুন অজুহাত, টালবাহানা ও কালক্ষেপণ ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি উল্লেখ করে সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী মো. শাকিল হাসান বলেন, “শাকসু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার। একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সমস্যা ও দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। তাই দ্রুত নির্বাচন দিন। আর যদি কোনো কারণে নির্বাচন দিতে না চান, তাহলে তার প্রকৃত কারণ, প্রতিবন্ধকতা এবং এর পেছনের মূল পরিকল্পনা বা মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করুন।”

রিটকারীর বক্তব্য
জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রিট করেছিলেন উল্লেখ করে মোমিনুর রশিদ শুভ বলেন, “দীর্ঘ সতের বছর পর একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছিল। নির্বাচনের আগে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, এজন্য আমি এ কাজ করেছি। এছাড়া শাকসু ছিল একটি দলকে বিজয়ী করার জন্য পাতানো নির্বাচনের পরিকল্পনা। আদালত সব কিছু বিবেচনা করে চার সপ্তাহের জন্য শাকসু স্থগিত করেছে। চার সপ্তাহ পর নির্বাচন আয়োজনে কোনো সমস্যা থাকার কথা না। যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কারণে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, বুলিং করা হয়েছে, মারার পরিকল্পনা করা হয়েছে তার জন্য তারা অনুতপ্ত হোক। আমি রিট তুলে নেব।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য
নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মুকাদ্দেস বলেন, “এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের কাছ থেকেই আসতে হবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের আর কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি কমিশন সংক্রান্ত বিষয়, বিশেষ করে যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের ব্যাপারেও আমরা এখনো অবহিত নই। স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার পর আমাদের প্রস্তুতি ছিল নির্বাচন সম্পন্ন করার, কিন্তু সে অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ আমরা এখনো দেখতে পাইনি। এছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশন থাকবে কি না এবং কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এসবই পুরোপুরি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে অনেক সময় পার হয়ে গেছে। একজন প্রার্থীও মারা গেছেন, অন্য প্রার্থীদের অবস্থাও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। কিন্তু আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। প্রাথমিক কাজগুলো আমরা সম্পন্ন করেছি এবং নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। এছাড়া, নির্বাচনের জন্য কেনা সরঞ্জামগুলো নিরাপদে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে বলেও অবহিত করেছি এবং তা বুঝে নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। কারণ এটি একটি নিরাপত্তাজনিত বিষয়। তবে দুঃখজনকভাবে, এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।

উপাচার্যের বক্তব্য
বর্তমান উপাচার্য নিয়োগের পূর্বে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর কাছে শাকসুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমাদের নিয়োগ দেওয়া আইনজীবী বলতে পারবেন। আমি আইনের বিষয়ে কিছু বুঝি না। আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ রাখছেন আমাদের সহকারী রেজিস্টার কালাম চৌধুরী। তার কাছ থেকে আইনজীবীর তথ্য নিয়ে যোগাযোগ করতে পারো।”

কিন্তু গত দুই মাসে কালাম চৌধুরীর সাথে ফোনে অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে না পাওয়ায়, তার অফিসে গেলে তিনি আইনজীবীর তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, রেজিস্টার তাকে অফিসিয়ালি বললে তিনি তথ্য দেবেন।

শাকসু নিয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমার নিয়োগ হয়েছে এক মাস হলো। এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার সাথে বসতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে পুরোপুরি জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে কথা বলে পজিটিভ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করব।”

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৫
  • ১২:০২
  • ৪:৩৭
  • ৬:৪৩
  • ৮:০৬
  • ৫:১৮