বছর কয়েক আগে স্বামীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর পর মিললো ছেলের ঝুলন্ত লাশ। পরপর দুটো ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনার কেন্দ্র উঠে এসেছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রুলী বিনতে রহিম।

মঙ্গলবার তাঁর একমাত্র ছেলে মাহাদি আনজুম (১৫)-এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। গুঞ্জন উঠেছে- মায়ের কারণেই ছেলে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন।

পেশায় চিকিৎসক হলেও চব্বিশের ৫ আগস্টের পর যুক্ত হন রাজনীততে। মনোনিত হন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিলেট মহানগর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক। তবে এখন তিনি কমিটিতে আছেন কিনা এনিয়ে দলটির দুই নেতার পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সিলেট মহানগর এনসিপি’র শীর্ষ এক নেতার দাবি, ২/৩ মাস আগে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে পদ থেকে। অবশ্য এনসিপি’র আরেক শীর্ষ নেতা বললেন- ডা. রুলী এখনো কমিটিতে আছেন।

গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রুলী বিনতে রহিমের দশম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোর ছেলে মাহাদি আনজুম (১৫)-এর ঝুলন্ত লাশ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কক্ষের দরজা ভেঙে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ টিম উদ্ধার করেছে।

রুলী সিলেট মহানগরের মিয়া ফাজিলচিশত এলাকার ১৩/৩ নং বাসার চতুর্থ তলায় দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন। দ্বিতীয় স্বামী মাঝে-মধ্যে আসতেন এ বাসায়। তিনি চাকরির সুবাদে মৌলভীবাজারে থাকেন বলে ওই নারী চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারনা- মাহাদির মৃত্যু আত্মহত্যা। তবে এ ঘটনার পর ডা. রুলী বিনতে রহিমকে ঘিরে উঠেছে নানা গুঞ্জন।

লাশ উদ্ধারের সময় পাশে ইংরেজিতে হাতে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। এতে লেখা- ‘আমার লাশ পুলিশ যেন না ধরে, পুলিশি তদন্ত ও ময়না তদন্ত যেন না হয়।’

তবে লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) দুপুরের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকালে দাফন করা হয় লাশের। এ তথ্য সচিত্র সিলেটকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান।

মর্মান্তিকভাবে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়া কিশোর মাহাদি সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং চিকিৎসক ডা. রুলী বিনতে রহিমের একমাত্র ছেলে। তার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মা ডা. রুলী অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের দিকে। তার অভিযোগ- মাহাদির প্রতি শিক্ষকদের রূঢ় আচরণই তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তবে ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ডা. রুলীর পরিবারের অতীত একটি ঘটনা নিয়ে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে মাহাদির বাবা মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যু হয় ‘রহস্যজনকভাবে’। ঘটনাটি সে সময় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজনদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ ও প্রশ্নও তোলা হয়েছিল। এ মৃত্যুর পেছনে ডাক্তার রুলীর হাত আছে বলে অভিযোগ উঠেছিলো সে সময়।

এবার অনেকেই সেই মৃত্যু এবং মাহাদির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

গুঞ্জন উঠেছে- বাবার মৃত্য ও মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে বা এসব বিষয় মেনে নিতে পারেনি মাহাদি। ফলে সে সেই সময় থেকেই ডিপ্রেশনে চলে যায়। খুব একটা কারো সঙ্গে মিশতো না। পড়ার টেবিলেই কাটিয়ে দিতো দিনের বেশিরভাগ সময়। মা-ও তাকে বেশি সময় দিতেন না। মাঝে-মধ্যে বড়বোনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতো মাহাদি। আর কারও সঙ্গে মিশতো না। তবে প্রতিদিন রুটিন করে অনেক্ষণ শরীরচর্চা করতো সে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে ডা. রুলীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকার কল করলেও তিনি রিসিভ করেনিনি। এছাড়া তাঁর ফেসবুক আইডিও ভার্যুয়্যাল প্লাটফর্মে এখন দৃশ্যমান নেই।

এদিকে, ডা. রুলী বিনতে রহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট এনসিপি’র দুই নেতার মুখে এ বিষয়ে দুইরকম মন্তব্য পাওয়া গেছে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ঘোষিত সিলেট মহানগর এনসিপি’র আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় ডা. রুলী বিনতে রহিমকে যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন করা হয়।

মহানগর এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক বুস্তান চৌধুরীকে কল তিনি ডা. রুলী বিনতে রহিম কমিটিতে আছেন বলে জানান।

আহ্বায়ক অ্যাড. আব্দুর রহমান আফজাল বলেন- ‘তিনি (ডা. রুলী) ইনেক্টিভ থাকায় ২/৩ মাস আগে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনিও আর রাজনীতি করতে আগ্রহী নন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *