১৯৯৭ সাল। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ফোবানা সম্মেলনে। সেই ঐতিহাসিক সম্মেলনে আমারও বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ২৯ বছর। ভেবেছিলাম, এবার লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিয়ে আবার ফিরে যাব সেই স্মরণীয় দিনগুলোর স্মৃতিতে।
ফোবানার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অবশ্য আরও পুরোনো। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ফোবানা সম্মেলনে একজন সংগঠক হিসেবে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও শিকড়ের বন্ধন অটুট রাখার সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার স্মৃতি আজও আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

পরবর্তী সময়ে আমার ভাই জনাব সাঈদ উর রব ফোবানাকে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। এমনকি তাঁর একক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফোবানার এক স্মরণীয় মহাউৎসব। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোনো সংগঠনের এমন মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যুতে অনুষ্ঠান আয়োজন নিঃসন্দেহে ছিল এক অনন্য ঘটনা, যা আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

তবে সেই আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২ লাখ ডলার জরিমানা করে। সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ জনাব রবকে নিজের পকেট থেকেই পরিশোধ করতে হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ফোবানা বিভক্ত হয়ে পড়লে সাঈদ উর রবসহ অনেকেই ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আমিও এরপর আর কোনো ফোবানা সম্মেলনে যোগ দিইনি।

এবার মনে হয়েছিল, দীর্ঘ বিরতির পর লস অ্যাঞ্জেলসে গিয়ে পুরোনো বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হবে, ফিরে দেখব ফোবানার দীর্ঘ পথচলা।

১৯৯৭ সালের সেই সম্মেলনের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং এবারের ফোবানা কনভেনশনের কনভেনর ড. জয়নাল আবেদিন ভাই ও তৎকালীন সদস্যসচিব ডিউক খান ভাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাঁদের আন্তরিক আহ্বান ফেলতে পারিনি। উচ্চমূল্যে বিমানের টিকিটও কেটেছিলাম। সস্ত্রীক যাওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলাম।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে আর যাওয়া হলো না। ২৯ বছর পর ফোবানার স্মৃতির দুয়ারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাটা এবারও অপূর্ণই থেকে গেল।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *