যমুনা সেতু পশ্চিম সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও নান্দনিক ‘হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ’। এরই মধ্যে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন নামক চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকি কাজ শেষ হলে উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো প্রকার যানজট ও বিড়ম্বনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন চালক ও যাত্রীরা। এতে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পেও খুলবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাকি ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ দ্রুত সময়ে শেষ হলে আগামী নতুন বছরের শুরুতেই চালুর অপেক্ষা ঘুচবে।

আর দেশে প্রথমবারের মতো সড়ক অবকাঠামোতে আধুনিক প্রযুক্তি, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) ব্যবহারের সুফল পাবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় মাটি ও বালু ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, এসএমবিডি ব্রিজ ও সার্ভিস এরিয়ার সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মূল ইন্টারচেঞ্জ ও র‍্যাম্পের ১ হাজার ৩০২টি পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার স্টেম এবং গার্ডার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো।প্রকল্প সূত্র জানায়, ‘সাউথ এশিয়া সাব-রিজিয়নাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক)-২ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনে সম্মতি দেওয়ার পর একই বছরের ১৫ জুন ভূমি অধিগ্রহণ জরিপ প্রতিবেদন জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে উল্লাপাড়া উপজেলার ধোপাকান্দি, চড়িয়াশিখর, হাসনপুর ও হাটিকুমরুল মৌজায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। কিন্তু অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পের ভূমি নির্দিষ্ট সময়ে বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয় অধিগ্রহণ শাখা। এতে সড়কের কাজ চললেও মূল প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গিয়ে শুরু হয়।

প্রকল্পটির শুরুতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও সেটি হয়নি। পরে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর করা হয়। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে দাবি করছেন প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা।তারা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, নতুন বছরের এপ্রিল অথবা মে মাসের দিকে গিয়ে কাজ সম্পন্ন হবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, হাটিকুমরুল গোল চত্বর ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থল।

শুধু তাই নয়, অন্তত ১০টি স্থলবন্দরের সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্রও এটি। আর এখানেই গড়ে উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় ও আন্তর্জাতিক মানের ইন্টারচেঞ্জ। যেখানে আলাদা ছয়টি র‍্যাম্প ও একটি গ্রাউন্ড রোড থাকবে। ফলে ঢাকা ও উত্তর-দক্ষিণমুখী যান চলবে আলাদা র‍্যাম্প দিয়ে, আর ধীরগতির যান চলবে নিচের গ্রাউন্ড রোডে। এরই মধ্যে ছয়টি লেন চালু হওয়ায় যাত্রী ও চালকরা সুফল পেতে শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *