এম আতাউর রহমান পীর : একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়ন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির এই যুগে ভাষা আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি জ্ঞান, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, কূটনীতি, গবেষণা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পৃথিবী আজ কার্যত একটি “গ্লোবাল ভিলেজ”-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতার ওপর। একসময় মাতৃভাষা জানাই যথেষ্ট ছিল, পরে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজি অপরিহার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ইংরেজির পাশাপাশি আরও একটি আন্তর্জাতিক ভাষার দক্ষতা একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রাখে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই বিশ্বের বহু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ তাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বহুভাষিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশেও বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা—যেমন জাপানিজ, কোরীয়, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি বা জার্মান—শিক্ষার উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, দক্ষ শিক্ষক, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ওপর। বিশ্বব্যাপী শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট হবে না; প্রয়োজন হবে আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ, ভাষাগত দক্ষতা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি। ইউনেস্কোর “গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এডুকেশন” ধারণাও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য এমন শিক্ষার্থী তৈরি করা, যারা নিজ দেশের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব সমাজেরও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে উঠবে। বহুভাষিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের ভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়, সহনশীলতা বৃদ্ধি করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করে। ভাষা শেখা কেবল নতুন শব্দ শেখা নয়; এটি নতুন সংস্কৃতি, নতুন চিন্তাধারা এবং নতুন সম্ভাবনার দরজাও উন্মোচন করে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, বহুভাষিক শিক্ষা তাদের জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে ‘মাদার টাং প্লাস টু লঙ্গুয়েজ” নীতিকে উৎসাহিত করছে, যার লক্ষ্য প্রত্যেক নাগরিক মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও দুটি ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। ফিনল্যান্ডে শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শেখে এবং পরবর্তীতে সুইডিশ, জার্মান, ফরাসি, রাশিয়ান কিংবা স্প্যানিশের মতো ভাষা শেখার সুযোগ পায়। ফিনল্যান্ডের উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণা এবং বহুভাষিক দক্ষতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিভাষিক রাষ্ট্র হিসেবে ইংরেজি ও ফরাসিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিছু প্রদেশ ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা স্প্যানিশ, জার্মান বা ম্যান্ডারিন শেখার সুযোগও পায়। ফলে কানাডার শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি এবং গবেষণাক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা অর্জন করে। সুইজারল্যান্ডে জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় এবং রোমানশ—এই চারটি ভাষা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই একাধিক ভাষা শেখে। এর ফলে দেশটি ভাষাগত বৈচিত্র্য বজায় রেখে দেশটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং, পর্যটন ও কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে। একইভাবে লুক্সেমবার্গে শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই লুক্সেমবার্গিশ, জার্মান ও ফরাসি শেখে। এই বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা দেশটির উচ্চ উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নেদারল্যান্ডসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাতৃভাষা ডাচের পাশাপাশি ইংরেজিতে অত্যন্ত দক্ষ এবং পরবর্তীতে জার্মান বা ফরাসি শেখে। ফলে দেশটির তরুণরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সহজেই উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করে। জার্মানিতেও বিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, স্প্যানিশ কিংবা লাতিন শেখানো হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রকৌশল ও গবেষণায় জার্মান শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে এই বহুভাষিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সিঙ্গাপুরের দ্বিভাষিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। সেখানে ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ম্যান্ডারিন, মালয় অথবা তামিল শেখে এবং অনেকেই অতিরিক্ত ভাষা হিসেবে জাপানিজ, ফরাসি বা জার্মানও শেখে। এর ফলে সিঙ্গাপুর খুব অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা শুধু একটি শিক্ষানীতির বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স। প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু ভাষাগত দক্ষতার অভাবে তাঁদের একটি বড় অংশ দক্ষ কর্মী হিসেবে নয়, বরং সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন। ফলে একই ধরনের কাজ করেও ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম বা নেপালের ভাষাদক্ষ কর্মীদের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম সুযোগ ও কম বেতন পান। অথচ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জার্মানির মতো দেশে স্থানীয় ভাষা জানা থাকলে উন্নত কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, আইটি ও উৎপাদন খাতে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই ভাষা শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবসম্পদ আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। শুধু
শুধু শ্রমবাজার নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও তৃতীয় ভাষার গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও অন্যান্য দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যায়। এসব দেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি, গবেষণা অনুদান এবং খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। জাপানের এমইএক্সটি, চীনের সিএসসি, জার্মানির ডিএএডি কিংবা ফ্রান্সের বিভিন্ন সরকারি বৃত্তি কর্মসূচিতে স্থানীয় ভাষাজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা সৃষ্টি করে। ফলে বিদ্যালয় থেকেই ভাষা শিক্ষার ভিত্তি গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হবে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই দশকে দেশটি কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজির সঙ্গে জাপানিজ, কোরীয় ও ম্যান্ডারিন ভাষাকে তারা যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলেই স্যামসাং, এলজি, ফক্সকন, টয়োটা, ক্যাননসহ বিশ্বের বহু বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সেখানে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। দক্ষ, ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন এবং প্রযুক্তিবান্ধব কর্মী পাওয়ার কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান ভিয়েতনামকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। একইভাবে ফিলিপাইন ইংরেজির পাশাপাশি জাপানিজ ও স্প্যানিশ ভাষার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং শিল্প গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশও যদি পরিকল্পিতভাবে ভাষা শিক্ষাকে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তবতার দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি বিদ্যালয়ে এখনো ইংরেজি শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেও সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষার মানের বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে ভাষা শেখানোর প্রয়োজনীয় উপকরণ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক কিংবা প্রযুক্তিগত সুবিধা নেই। এই বাস্তবতায় রাতারাতি তৃতীয় ভাষা চালু করা হলে প্রত্যাশিত ফল নাও আসতে পারে। তাই প্রথমে বাংলা ও ইংরেজির মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে তৃতীয় ভাষা বাস্তবায়ন করা অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। বিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা চালুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা। জাপানিজ, কোরীয়, ম্যান্ডারিন, জার্মান বা ফরাসি ভাষায় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত। এজন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে শিক্ষক বিনিময়, অনলাইন প্রশিক্ষণ এবং যৌথ ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এই সংকট অনেকাংশে দূর করতে পারে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভাষা শিক্ষা অ্যাপ, স্পিচ রিকগনিশন প্রযুক্তি, ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষ, অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে তুলনামূলক কম ব্যয়ে মানসম্মত ভাষা শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। প্রতিটি বিদ্যালয়ে আলাদা ভাষা ল্যাব তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান আইসিটি ল্যাবকে নির্দিষ্ট সময় ভাষা শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত ব্যয়ও কম হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু শিশু প্রথমে নিজস্ব মাতৃভাষা, পরে বাংলা এবং ইংরেজি শেখে। তাদের জন্য আবার একটি নতুন আন্তর্জাতিক ভাষা বাধ্যতামূলক করলে অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষাকে বাধ্যতামূলক না করে ঐচ্ছিক রাখা যেতে পারে। বিদ্যমান মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা এবং ‘ব্রিজিং প্ল্যান’-এর সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টি করলে তারা বৈষম্যের শিকার হবে না এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারবে। ভাষা শিক্ষা যেন মুখস্থনির্ভর না হয়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে আমাদের পরীক্ষাব্যবস্থায় লিখিত পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়, অথচ বাস্তব যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শোনা, বলা, পড়া এবং লেখা—এই চারটি দক্ষতার সমন্বিত বিকাশ। তাই মূল্যায়ন ব্যবস্থায় মৌখিক উপস্থাপনা, কথোপকথন, শ্রবণ অনুধাবন এবং ব্যবহারিক যোগাযোগ দক্ষতাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাকরণের পরিবর্তে আনন্দময় পরিবেশে ভাষা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর হবে। সত্যিকার অর্থে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, দক্ষ শিক্ষক তৈরি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর। বাংলা আমাদের আত্মপরিচয়ের ভাষা, ইংরেজি বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রধান ভাষা এবং একটি আন্তর্জাতিক তৃতীয় ভাষা হতে পারে ভবিষ্যতের জ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও কূটনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চাবিকাঠি। সুপরিকল্পিত নীতিমালা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি এই উদ্যোগকে সফল করতে পারে, তবে আগামী প্রজন্ম শুধু দেশেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মদন মোহন কলেজ, সিলেট- এর সাবেক প্রিন্সিপাল



