যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড কাউন্টির পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক হাসান শেরজিল খানের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছে। এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রলোভন ও যৌন নির্যাতনের দায়ে বর্তমানে তিনি ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী জে ক্লেটন এই মামলাটি পরিচালনা করছেন। বিচার বিভাগের অভিযোগ, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করার সময় খান তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য গোপন করেছিলেন এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ৩৮ বছর বয়সী হাসান শেরজিল খান ২০১২ সালের আগস্টে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সেই আবেদনের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে গিয়ে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই কিশোরীকে বহু বছর ধরে প্রলোভন ও মানসিক চাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন এবং তাকে অশালীন ছবি পাঠাতে ও অনলাইন ভিডিওতে আপত্তিকর কাজে অংশ নিতে বাধ্য করতেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রায় দুই বছর পর, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কোনো যৌন অপরাধীকে তার জঘন্য অপরাধের দায় থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকত্বের আবেদনকালে কেউ যদি গুরুতর কোনো অপরাধের তথ্য গোপন করে, তবে সরকার তা খুঁজে বের করবে এবং নিয়ম অনুযায়ী সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খান নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘উত্তম নৈতিক চরিত্রের’ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মামলা চলাকালীন ভুক্তভোগী কিশোরী তার ওপর হওয়া নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে জানান, এই ঘটনার ফলে তিনি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। হতাশা, বিভ্রম এবং আত্মক্ষতির প্রবণতার কারণে তার স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন যৌন অপরাধসহ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিচার বিভাগের তথ্যমতে, জালিয়াতি বা অপরাধ গোপন করে নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধীদের সম্পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনের এই কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *