
ক্যাবল টিভি সংবাদ জগতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার ৮৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। বুধবার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে টার্নার এন্টারপ্রাইজেসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ওহাইওতে জন্ম নেয়া আটলান্টার এই ব্যবসায়ী তার স্পষ্টভাষী স্বভাবের কারণে ‘দ্য মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি এমন এক মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যার মধ্যে আছে কেবলের প্রথম ‘সুপারস্টেশন’, জনপ্রিয় সিনেমা ও কার্টুন চ্যানেল এবং পেশাদার ক্রীড়া দল।
যেমন আটলান্টা ব্রেভস। টার্নার ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইয়টচালক, সমাজসেবক এবং পরিবেশবাদী। তিনি ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলের পক্ষে প্রচার চালান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ভূমির মালিক। আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে বাইসন পুনঃপ্রবর্তনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরিবেশ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে তিনি ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ কার্টুনও তৈরি করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
যেমন আটলান্টা ব্রেভস। টার্নার ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইয়টচালক, সমাজসেবক এবং পরিবেশবাদী। তিনি ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলের পক্ষে প্রচার চালান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ভূমির মালিক। আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে বাইসন পুনঃপ্রবর্তনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরিবেশ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে তিনি ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ কার্টুনও তৈরি করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
তবে তাকে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত করে তোলে রিয়েল টাইমে, ২৪ ঘণ্টা সংবাদ সম্প্রচারের সাহসী ধারণা, যা পরবর্তীতে টেলিভিশন সংবাদ জগতকে বদলে দেয়। ১৯৯১ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, তিনি ঘটনাপ্রবাহের গতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছেন এবং ১৫০টি দেশের দর্শকদের ইতিহাসের তাৎক্ষণিক সাক্ষীতে পরিণত করেছেন।
পরবর্তীতে টার্নার তার নেটওয়ার্কগুলো টাইম ওয়ার্নারের কাছে বিক্রি করেন। ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ান। তবুও তিনি সবসময় সিএনএনকে তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বলে উল্লেখ করতেন।
সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক থম্পসন এক বিবৃতিতে বলেন, টেড ছিলেন অত্যন্ত সম্পৃক্ত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা- দুঃসাহসী, নির্ভীক এবং নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রাখতে সদা প্রস্তুত। তিনি ছিলেন এবং সবসময় সিএনএনের প্রাণশক্তি হয়ে থাকবেন। সিএনএনের উপস্থাপক উলফ ব্লিটজার বলেন, টেড ছিলেন কিংবদন্তি। তিনিই প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল তৈরি করে টেলিভিশন ব্যবসায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন। সহ-উপস্থাপক পামেলা ব্রাউন বলেন, আমরা সবাই এখানে কাজ করছি টেডের কারণেই।
সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর বলেন, তিনি ছিলেন আসল পথিকৃৎ। তিনি আমাদের গর্বিত করেছেন, আশাবাদী করেছেন এবং একটি ভালো পৃথিবীর স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ২০১৮ সালে ৮০তম জন্মদিনের কিছু আগে টার্নার জানান, তিনি লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এটি একটি জটিল স্নায়ুবিক রোগ। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরে তিনি পুনর্বাসন কেন্দ্রে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি পাঁচ সন্তান, ১৪ নাতি-নাতনি এবং দুই প্রপৌত্র রেখে গেছেন।