বার্মিংহামে লেবারের ভরাডুবি

যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামের স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প দেখা দিয়েছে। টানা ১৪ বছর এককভাবে ক্ষমতায় থাকা লেবার পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে এখন কার্যত ক্ষমতাহীন অবস্থায় পড়েছে। নির্বাচনের পর কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় শহরটিতে গঠিত হয়েছে একটি ঝুলন্ত পরিষদ।

নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে, গ্রিন পার্টি, কনজারভেটিভ, লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আসন ভাগাভাগি করে নেওয়ায় বার্মিংহামের রাজনৈতিক চিত্র এখন রঙধনুর মতো বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে।

এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে রিফর্ম ইউকে ২২টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়েছে। যদিও পূর্বাভাসে দলটির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা দেখা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারা সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থাকে।

অন্যদিকে সীমিত অর্থ ও স্বল্প প্রচারণা নিয়েও গ্রিন পার্টি ১৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টিও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করে ১৬টি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে সাটন কোল্ডফিল্ড অঞ্চলে দলটি নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে লেবার পার্টি। দলটি মাত্র ১৬টি আসন পেয়ে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন কাউন্সিল লিডার জন কটন সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন মরিয়ম খান, রব পকোক এবং সাইমা সুলেমান।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১২টি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। দলটির নেতা Roger Harmer এবং উপনেতা Deborah Harries নিজেদের আসন ধরে রাখেন। এছাড়া জনপ্রিয় কাউন্সিলর Izzy Knowles ও Phillip Mills পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব Akhmed Yakoob এবং Shakeel Afsar সমর্থিত প্রার্থীদের পাশাপাশি ভিন্নমতের স্বাধীন প্রার্থীরাও জয় পেয়েছেন। সব মিলিয়ে স্বতন্ত্রদের দখলে গেছে ১৩টি আসন।

তবে এখনও চারটি আসনের ফলাফল ঘোষণা বাকি রয়েছে। গ্লিব ফার্ম অ্যান্ড টাইল ক্রস এবং বর্নভিল অ্যান্ড কটারিজ ওয়ার্ডে পুনর্গণনা শেষে সোমবার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, দারিদ্র্য মোকাবিলায় ধীরগতি, অভিবাসন ইস্যু এবং গাজা পরিস্থিতি নিয়ে লেবারের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের বড় অংশকে বিকল্প শক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

একইসঙ্গে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের আর্থিক সংকট, দেউলিয়াত্ব, বর্জ্য সংগ্রহ সংকট এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগও লেবারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে কোনো একক দল পরিষদ নিয়ন্ত্রণের অবস্থানে নেই। এমনকি দুই দলের জোট করেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে আগামী কয়েকদিন জুড়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও দরকষাকষি চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার রডনি স্টারমার-এর ওপরও নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৩
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৫
  • ৬:২৭
  • ৭:৪৮
  • ৫:১৪