টাওয়ার হ্যামলেটসে আবারও লুৎফুর, নিউহ্যামে ফরহাদ

লন্ডনের দুই বারায় বাংলাদেশি নেতৃত্বের উত্থান

লন্ডনের দুই বারায় বাংলাদেশি নেতৃত্বের উত্থান

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের পাশাপাশি অবস্থানে থাকা বাংলাদেশি অধ্যুষিত দুই গুরুত্বপূর্ণ বারা কাউন্সিল—টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যাম। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বারার নেতৃত্বে এখন দুই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রাজনীতিক। দুজনেরই পৈত্রিক নিবাস সিলেটে। ফলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণ, প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতার নতুন এক ইতিহাস রচিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ‘জনতার মেয়র’ খ্যাত লুৎফুর রহমান। অন্যদিকে নিউহ্যাম কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি, যিনি মূলধারার রাজনৈতিক দল থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসে আবারও লুৎফুর রহমানের জয়

অ্যাসপায়ার পার্টির নেতা লুৎফুর রহমান ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে আবারও নিজের রাজনৈতিক শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। আর গ্রিন পার্টির প্রার্থী হীরা খান পেয়েছেন ১৯ হাজার ২২৩ ভোট, যা লেবার প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ২৩১ ভোট কম।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রিফর্ম ইউকের জন বোলার্ড পেয়েছেন ৭ হাজার ১৫৩ ভোট, কনজারভেটিভ পার্টির ডমিনিক নোলান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৮ ভোট, টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টসের জামি আলী পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৬ ভোট এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টির মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান পেয়েছেন ২ হাজার ৪২১ ভোট। এছাড়া ট্রেড ইউনিয়নিস্ট অ্যান্ড সোশালিস্ট কোয়ালিশনের হুগো পিয়েরে পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্যারেন্স ম্যাকগ্রেনেরা পেয়েছেন ৫২৪ ভোট।

২০১০ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে লুৎফুর রহমান যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম বর্ণসংখ্যালঘু নির্বাহী মেয়র হিসেবে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হলেও সেই নির্বাচন পরবর্তীতে বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০২২ সালে আবারও মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এই জয় তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

টাওয়ার হ্যামলেটসে তার জনপ্রিয়তার পেছনে স্থানীয় জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্রি স্কুল মিল, শিক্ষা সহায়তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিউহ্যামে ফরহাদ হোসেনের ঐতিহাসিক বিজয়

অন্যদিকে নিউহ্যাম কাউন্সিলে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি ব্রিটেনে প্রথম কোনো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি, যিনি একটি মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তার এই বিজয়কে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, বরং ব্রিটিশ রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্য এটি এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির মতো মূলধারার দলে বাংলাদেশি নেতৃত্বের উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে বহুসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরছে।

লন্ডনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান

লন্ডনে মোট ৩২টি বারা কাউন্সিল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫টিতে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হন। এসব মেয়রের হাতে প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষমতা থাকে। বাকি কাউন্সিলগুলোতে নেতৃত্ব মূলত শিরোমণিয়াল বা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বর্তমানে এই পাঁচ নির্বাহী মেয়র পরিচালিত বারার মধ্যে দুটিতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি অরিজিনের মেয়র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং ব্রিটেনের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যামের মতো বহুজাতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশি নেতৃত্বের এই অবস্থান ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কমিউনিটি নেতাদের মতে, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার ফলেই আজ ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের এই অর্জন শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৩
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৫
  • ৬:২৭
  • ৭:৪৮
  • ৫:১৪