জামালপুরের ‘ক্রিস গেইল’-এর দাম ৬ লাখ টাকা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার ময়না এগ্রো ফার্মের বিশাল আকৃতির গরু ‘ক্রিস গেইল’। ৮০০ কেজি ওজনের গরুটি কিনতে ইতোমধ্যেই ফার্মে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এদিকে প্রত্যাশিত দাম পাওয়ার আশায় ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি ‘ক্রিস গেইলের’ মালিক মো. দিয়া মিয়া।

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা ময়না এগ্রো ফার্ম নামের ওই খামারে বর্তমানে গরু রয়েছে ২৬টি। সেই ২৬টি গরুর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নেপালি ‘গির’ জাতের ‘ক্রিস গেইল’।

খামারের মালিক মো. দিয়া মিয়া জানান, তিন বছর আগে এক খামারির কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কেনা হয়। তিনি যখন গরুটি কিনেছিলেন তখন গরুটির বয়স ছিলো ৬ মাস। তিনি গরুটি কেনার পর তার নাম দেন ‘ক্রিস গেইল’। মূলত তিনি ক্রিকেটার ‘ক্রিস গেইলের ভক্ত, সেই থেকেই সে তার গরুটির নাম ‘ক্রিস গেইল’ দিয়েছে। তিন বছর লালল-পালনের পর বর্তমানে উচ্চতায় ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি ও লম্বাই ৬ ফিট ৬ ইঞ্চি গরুটির ওজন হয়েছে প্রায় ৮০০ কেজি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাঢ় লালচে-বাদামী রঙের গরুটি কিছুটা রাগি স্বভাবের। তার গলায় ওপর ছোট ছোট অসংখ্য কালো এবং বাদামী বিন্দু রয়েছে। শিংগুলো ছোট এবং পেছনের দিকে বাঁকানো। গরুটি খামারে থাকা লোকজনকে কিছু না বললেও অপরিচিত কেউ তার কাছে গেলে তার দিকে তেড়ে আসে। তার পাশে গিয়ে খামারের মালিককে তার দাম জিজ্ঞেস করলে তার চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়তে থাকে। তার চোখের সেই পানি যেনো বলে দেয় আরো কিছুদিন থাকতে দাও আমার এই পুরানো গোয়ালঘরটিতে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্রিস গেইলকে’ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। তার দেখা শুনার জন্য রাখা হয়েছে ইমনার নামের এক যুবককে। ‘ক্রিস গেইলকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সকালের খাবার দেওয়া হয়। তাকে সকালের খাবারে দেওয়া হয় ১০ কেজি সাইলেজ, ৭ কেজি ঘাস আর দেড় কেজি গমের ভুসি। তারপর বেলা ১১টা থেকে ১২টার ভেতরে তাকে গোসল করানো হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে আবারো তাকে ১০ কেজি সাইলেজ, ৭ কেজি ঘাস ও দেড় কেজি গমের ভুসি খাওয়ানো হয়। গরুটি বিক্রির জন্য খামারের মালিক দিয়া মিয়া দাম চাচ্ছে ৬ লাখ টাকা। ইতিমধ্যেই অনেক ক্রেতা গরুটি কিনতে আসলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করেনি দিয়া মিয়া। প্রত্যাশিত দামের জন্য ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি তিনি।

খামারটির কর্মচারী ইমরান হোসেন (২৫) বলেন, আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। আমি এখানে থেকে খামারে কাজ করি। আমি ছোট বেলা থেকেই গরু দেখাশোনার কাজ করি। আমি সারা বছর গরুগুলোকে খাওয়াই, গোসল করাই। ঈদের সময় যখন গরুগুলো বিক্রি হয়ে যায় তখন আমার অনেক কষ্ট হয়। গরুগুলোকে আমি সন্তানের মতো ভালোবাসি। আমি ওদের কথা বুজি ওরাও আমার মনের কথা বুঝে।

খামারের মালিক মো. দিয়া মিয়া (৩৫) বলেন, ‘ক্রিস গেইল’ অনেক মায়াবী একটি গরু। আমি কখনো ওরে একটা বেত আঘাত করতে দেইনি। ওরে যখন আমার খামার থেকে নিয়ে যাবে তখন আমার কেমন লাগবে সেটা একমাত্র আমিই জানি। ওর সামনে কেউ দামাদামি করলে ওর যেমন খারাপ লাগে, ওর যেমন চোখ দিয়ে পানি পড়ে। তেমন আমারো খারাপ লাগে আমারো চোখ দিয়ে পানি পড়ে। আমি এটার দাম চাচ্ছি ৬ লাখ। অনেকে দাম করেছে কিন্তু আমার প্রত্যাশিত দাম কেউ বলেনি। আমি ঈদের দিন পর্যন্ত দেখবো।

‘ক্রিস গেইলকে’ কিনার উদ্দেশ্যে দেখতে আসা আব্বাস বেপারি (৬৫) বলেন, আমি অন্য বেপারিদের কাছে শুনলাম এই খামারে বড় গরু আছে। গরুটি ভালো জাতের উচা-লম্বা মাংস ভালোই হয়ে। তবে গরুর মালিক যে দাম চাচ্ছে ওই দামে আমি গরুটি নিতে পারবো না। ওই দামে নিয়ে আমি বিক্রি করে লাভ করতে পারব না।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ময়না এগ্রো ফার্মের সবচেয়ে বড় গরু যেটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রিস গেইল’ সেটার কথা শুনেছি। আমদের মেডিকেল টিম গিয়ে দেখেও আসেছে। আমাদের সারা জেলায় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে। জেলার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ১৫টি। আমাদের কাছে যে পশু আছে তা দিয়ে আমাদের জেলার চাহিদা মিটিয়ে আরো প্রায় ২৫ হাজার পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতে পারব। আমরা খামারগুলোতে যাচ্ছি এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

উল্লেখ্য, জামালপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন পবিত্র হজ পালন করার জন্য ছুটিতে রয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রয়েছেন জেলা প্রণিসম্পদ দপ্তরের ট্রেনিং অফিসার ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৩
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৫
  • ৬:২৭
  • ৭:৪৮
  • ৫:১৪