
মৌলভীবাজার জেলার পৃথক তিন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় এক গৃহবধূ ও এক তরুণীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল ও বড়লেখা উপজেলা থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুজন বিষণ্ণতা ও অভিমান থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং একজন মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওর থেকে বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদ বকস্ (৩০) নামের এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাহমুদ শহরতলীর নোয়াগাঁও এলাকার আছকর আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে হাইল হাওরে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। বুধবার রাতে রাজাপুর এলাকার একটি হ্যাচারি সংলগ্ন জলাশয়ে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাছ ধরার সরঞ্জাম লাশের সাথেই পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পা পিছলে পানিতে পড়ে তিনি আর উঠতে পারেননি।
মৌলভীবাজার পৌর শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শুক্লা সিংহ (২২) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্লা মৌলভীবাজার আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার তিলোকপুর গ্রামের রঞ্জন সিংহের মেয়ে।
চাকরির সুবাদে তিনি ওই বাসার ষষ্ঠতলায় একাই থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া চা বাগান থেকে ময়না গঞ্জু (৩৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে বাবার বাড়ির রান্নাঘর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ময়না কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা বাগানের বাসিন্দা সুকিন্দর গঞ্জুর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ায় স্বামীর সাথে কলহের জেরে এক বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। সেখানে থাকাকালীন বিশ্বজিৎ গঞ্জু নামে এক যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি বিশ্বজিৎ অন্যত্র বিয়ে করায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ময়না।
বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যেখানে বিশ্বজিতের নামসহ ব্যক্তিগত বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমিকের বিয়ের খবরে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
উদ্ধারকৃত তিনটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা ও তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।