২ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা

ইরানে পালানো যে নারী গোয়েন্দার খোঁজে হন্য এফবিআই

ইরানে পালানো যে নারী গোয়েন্দার খোঁজে হন্য এফবিআই মনিকা উইট [প্রতীকি]

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (পাল্টা-গোয়েন্দা) কর্মকর্তা মনিকা উইটকে ধরিয়ে দিতে ২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ইরানে পালিয়ে যাওয়া এই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বর্তমানে সেখানে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী ও চরম হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এফবিআই এক বিবৃতিতে ইরানের বর্তমান ‘সংকটময় মুহূর্তে’ মনিকা উইটের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে সংস্থাকে জানাতে অনুরোধ করেছে। ওয়াশিংটনে এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ওয়াইরজবিকি বলেন, “এফবিআই তাকে ভুলে যায়নি। আমরা তাকে বিচারের আওতায় আনতে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।”

মনিকা উইটের অতীত ও দলত্যাগ

মনিকা উইট যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল শাখা ‘অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস’-এ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে অত্যন্ত দক্ষ এই কর্মকর্তা ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তবে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডেমার্স এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে জানান, ইরান সুকৌশলে মনিকাকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায়। এরপর তিনি ২০১৩ সালে ইরানে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি ফাঁস করে দেন। শুধু তাই নয়, তিনি একজন সক্রিয় মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার আসল পরিচয়ও প্রকাশ করে দেন, যার ফলে ওই কর্মকর্তার জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি

মার্কিন আদালতের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মনিকা ইরান এবং ইরানের বাইরের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এমন সব স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য সরবরাহ করেছেন, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন করেছে এবং ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সুবিধায় ব্যবহৃত হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইরানে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সরকার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনিকাকে তাদের হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ ঘরবাড়ি, উচ্চপ্রযুক্তির কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সব ধরনের সেবা প্রদান করে আসছে।

বর্তমানে মনিকা উইটের পক্ষে কোনো আইনি প্রতিনিধি বা আইনজীবী কাজ করছেন কি না, তা মার্কিন প্রশাসনের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারীদের যেকোনো মূল্যেই হোক বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৯
  • ১১:৫২
  • ৪:২৬
  • ৬:৩০
  • ৭:৫২
  • ৫:১১