জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (১৭ মে) রাতে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতির কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রবেশমুখে বিক্ষোভ করেন এনসিপি মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা টাইগারপাস এলাকায় অবস্থিত চসিক কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড দেন এবং সড়ক ও দেয়ালে নতুন করে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন। কয়েকটি স্লোগানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ইঙ্গিত করা হয়।

পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে গেলে টাইগারপাস এলাকায় মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গ্রাফিতি নষ্ট করতে লোক পাঠানোর অভিযোগ তোলেন এবং নেতাকর্মীদের চসিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর রাত ১১টার দিকে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা টাইগারপাস এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে ৩০ থেকে ৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে রাত সোয়া ১২টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের লালখান বাজার এলাকায় যান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য দেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতন-নিপীড়নের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘গ্রাফিতি নিয়ে আমার অবস্থান তুলে ধরার পরও এনসিপির এক বিতর্কিত নেতা শহরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। জুলাই বিপ্লবে আমার বাসায় হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে, ১৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার সামনে মায়াকান্না করে লাভ নেই। আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নান্দনিক গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে। চসিক এ জন্য টাকা দেবে। যদি চসিক না পারে, তাহলে আমার পকেটের টাকায় এটি বাস্তবায়ন করব।’

অন্যদিকে চসিক মেয়রের মেয়াদ চলে গেছে উল্লেখ করে তাকে পদ থেকে দ্রুত সরে যাওয়ারও আহ্বান জানান এনসিপি নেতা আরিফ মইনুদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *