
যুদ্ধের আগে প্রতি বছর গাজার মুসলমানরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার গরু ও উট, আর ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ভেড়া-দুম্বা আমদানি করতেন ঈদুল আজহার কুরবানির জন্য।
কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজায় জীবন্ত পশু প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কুরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা পালন করতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।
চলতি বছর গাজায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে।
কোগাট সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে প্রায় ৮ হাজার টন মাংস, মুরগি, ডিম ও দুধ গাজায় প্রবেশ এবং সেগুলো বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কুরবানির পশু আমদানির অনুমতি মেলেনি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দা নাজিয়া আবু লেহিয়ার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় হজ পালন করবেন। ২০২৪ সালে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নামও নিবন্ধন করেছিলেন তারা। নির্বাচিতও হয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়— আর তাদের হজযাত্রা থেমে যায় সেখানেই।
চলতি বছরও হজে যেতে পারছেন না নাজিয়া। কারণ সীমান্ত এখনও পুরোপুরি খুলেনি। এরই মধ্যে গত বছর ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন তার স্বামী। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তাদের বাড়ি-ঘরও। এখন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় একটি তাঁবুতেই দিন কাটছে তার।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাজিয়া বলেন, ‘আমি আর আমার স্বামী ২০২৪ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলাম। আমাদের নামও চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেল… আর হজে যাওয়া হলো না।’
কিছুক্ষণ থেমে তিনি আরও বলেন, ‘ভাবছিলাম যুদ্ধ শেষ হলে সীমান্ত খুলবে। কিন্তু তার আগেই এক বোমা হামলায় আমার স্বামী মারা গেলেন।’
৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া জানান, বহু বছর ধরেই তিনি হজে যাওয়ার নিয়ত করে রেখেছেন। মৃত্যুভয় তাকে তাড়িয়ে বেড়ালেও আশা ছাড়েননি এখনও।
তার ভাষায়, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আমিও হয়তো কোনো একদিন স্বামীর মতো নিহত হবো। তারপরও বিশ্বাস করি— যদি আল্লাহ চান, একদিন আমি অবশ্যই হজ করতে পারব।’
যুদ্ধের আগে গাজার হজযাত্রীরা রাফা ক্রসিং পেরিয়ে মিসর হয়ে সৌদি আরবে যেতেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজাবাসীর ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এই সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয় ইসরাইল।
যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রাফা ক্রসিং আংশিকভাবে খুলেছে। তবে সপ্তাহে মাত্র কয়েক শ মানুষকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকার পাচ্ছেন মূলত আহত ও গুরুতর অসুস্থরা।
নিজের মোবাইলে হজের ভিডিও দেখতে দেখতে নাজিয়া প্রশ্ন রাখেন, ‘হজযাত্রীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ কেন? তারা তো শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে চায়। আজকের দিনে আমাদের মক্কায় থাকার কথা ছিল।’
গাজার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইসরাইলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী কেবল মানবিক কারণেই রাফা ক্রসিং খোলা রাখা হয়েছে। হজযাত্রা সেই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না।