মানবাধিকার ও রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে নিজের অনড় অবস্থানের আরও একটি নজির রাখলেন নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র এবং প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি। আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ‘ইসরায়েল ডে প্যারেডে’ অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নেওয়া তাঁর এই সিদ্ধান্ত শহরের প্রগতিশীল ও অধিকারকামী নাগরিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল নিউইয়র্ক সিটি। স্বভাবতই ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্যারেডটির একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য রয়েছে। তবে বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি শুরু থেকেই চিরাচরিত প্রথার চেয়ে বৈশ্বিক শান্তি ও মানবিক অধিকারকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকালেই তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নীতিগত কারণে তিনি এ ধরনের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে পারেন।

মেয়র মামদানির এই সাহসী পদক্ষেপের পর শহরের কিছু প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন অসন্তোষ প্রকাশ করে মেয়র কার্যালয় আয়োজিত একটি ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেয়র মামদানি কোনো সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, তাঁর প্রগতিশীল ভোটারদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি শতভাগ সৎ থাকছেন।

গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের রাজপথে যখন যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, তখন মেয়রের এই শান্তিপ্রিয় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে শহরের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, চাপের মুখেও নিজের আদর্শে অবিচল থাকার এই গুণটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে এক নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *