
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে লড়ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। আজ মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এক বছরের মেয়াদের জন্য তাদের পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন করবে। ঐতিহাসিকভাবে এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কেননা, দীর্ঘ প্রায় চার দশকের মধ্যে এবারই ড্রাইভিং সিটে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রচলিত আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত। নির্বাচনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার প্রতিপক্ষ সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক বিশেষ দূত ও রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে বেয়ারবক সাধারণ পরিষদের পঞ্চম নারী সভাপতি।
এমন এক প্রেক্ষাপটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্ব জুড়ে একাধিক সংঘাত, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জাতিসংঘের আর্থিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হতে যাওয়ায় জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ফলে ৮১তম অধিবেশনকে জাতিসংঘের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচজন নতুন অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনের একদিন আগে।
বাংলাদেশের প্রার্থিতা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া ড. খলিলুর রহমান এর আগে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নির্বাচনী ভিশন বিবৃতিতে ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, সকল দেশকে সমান অধিকারের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া এবং বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে তিনি সকলের জন্য পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, গ্লোবাল সাউথের একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা বহন করলেও নির্বাচিত হলে সমগ্র সদস্যপদের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি প্রস্তুতি, উন্নয়নের অধিকার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলো আগামী অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সম্মিলিত সংকল্পের পরীক্ষা নেবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নির্বাচিত হলে আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং সদিচ্ছাপূর্ণ আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে কাজ করবেন। খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে তিনি হবেন বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয় সভাপতি। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের কূটনীতিক ও সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন।