আব্দুল হান্নান: বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসব কড়া নাড়ছে দ্বারে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থকে কেন্দ্র করে সিলেটে শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পতাকা ওড়ানো ও জার্সি কেনার ধুম। সিলেটের ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। প্রিয় দলের পতাকার পাশাপাশি দেদারসে বিক্রি হচ্ছে তারকা খেলোয়াড়দের নম্বর ও ছবিসংবলিত জার্সি।

তবে এবারের উন্মাদনা শুধু পতাকা আর জার্সিতেই সীমাবদ্ধ নেই; সিলেটের ডিজিটাল ব্যানার ও প্রিন্টিংয়ের দোকানগুলোতে এখন চলছে অন্যরকম এক প্রতিযোগিতা। নিজ নিজ পছন্দের দলের ছবি, ব্যানার ও ফেস্টুন বানানোর হিড়িক পড়েছে পুরো সিলেট বিভাগ জুড়ে।

সরেজমিনে সিলেটের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় তুমুল ব্যস্ততা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকরা বড় বড় ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন এসব দোকানে। হাজার কিলোমিটার দূরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও চায়ের কাপে ঝড় তোলা সিলেটের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে উন্মাদনার কোনো কমতি নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের কাজের চাপ প্রচুর বেড়েছে। বেশিরভাগ ব্যানারই ২০ থেকে ২৫ ফুট লম্বা হচ্ছে। কে কত বড় ব্যানার তৈরি করবেন—তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। অনেক সমর্থক নিজেদের মেসেঞ্জার বা ফেসবুক গ্রুপে টাকা তুলে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা ব্যানার অর্ডার করছেন। একটি ব্যানারে প্রিয় তারকার ছবির পাশাপাশি স্থানীয় সমর্থকদেরও ৮-১০ জনের ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

জিন্দাবাজারের একটি দোকানে ব্যানার বানাতে আসা ব্রাজিল সমর্থক রাহিন ও সুহান বলেন, “আমাদের এলাকার প্রায় ১০০ জন মিলে টাকা তুলে বিশাল ব্যানার তৈরি করছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রিয় দলকে শুভেচ্ছা জানাতেই আমাদের এই আয়োজন।”

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক ইমরান ও সজিব বলেন, “বন্ধুরা মিলে জমানো টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির ছবিসহ বড় ব্যানার বানাচ্ছি। এলাকার ছোট-বড় সবার মাঝে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে অন্যরকম এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।”

ডিজিটাল সাইন ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচন বা ঈদের মৌসুমের মতোই এখন তাদের ব্যবসা চাঙ্গা। প্রতিদিন শত শত তরুণ কম্পিউটারের পাশে বসে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন করে ব্যানার বানাচ্ছেন। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে, ব্যবসায়ীদের সারাদিনের পাশাপাশি রাত জেগেও প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই সিলেটে শুরু হয়ে গেছে মাঠের বাইরের আসল ফুটবল উন্মাদনা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উন্মাদনা যেন শুধু খেলাই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় ফুটবল বিশ্বের এই শ্রেষ্ঠ আসর।

 

 

খেলা/হা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *