
সিলেটের কানাইঘাটে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রবিবার (৫ জুলাই) রাতে কক্সবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও নিহতের ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন (৪৫), তাঁর ভাই ডালিম উদ্দিন (৩৫) এবং ভাগ্নে তারেক উদ্দিন (২৫)।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর আলম নিহত হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। আসামিরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন তিন আসামি গ্রেপ্তারের পর সন্তোষ প্রকাশ করে কানাইঘাট থানা-পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি এজাহারভুক্ত পলাতক অপর তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা মৃত মুসা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে স্থানীয় করুনা সুন্দরী দিঘীর সড়কের পাশে তাঁর ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন ও সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল দিন-রাত কাজ করছে।” মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি
সিলেট/হা



