হলান্ড- নিলান্ডে ব্রাজিলের বিদায়!

আবেগ লুকাতে পারছেন না নেইমার! তাঁর দু’চোখে জল। সবুজ গালিচা দিয়ে হাঁটছেন আর হাত দিয়ে কান্না থামানোর অব্যর্থ চেষ্টা। ভিনিসিয়ুস এসে নেইমারকে স্বান্তনা দিতে চান। কিন্তু তাঁকে কে দেবে স্বান্তনা? আসলে এটা এমন এক সময় যেন কেউ কারো নয়! একটা হার বদলে দিলো ব্রাজিলের জীবন। শুধুই কি নেইমার, ভিনিসিয়ুস, কাসেমিরোরা। মাঠের কান্না গ্যালারীতেও। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে আট/দশ বছরের এক শিশুর ওপর গিয়ে পড়লো টিভি ক্যামেরা। বাবার কোলে বসে চোখের জল ফেলা শিশুর ছবিই যেন কাল রাতের ব্রাজিলের ছবি! নেইমাররা যখন কাঁদছেন, তাঁদের শরীরি ভাষায় যখন সব হারানোর প্রকাশ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আরেক কোনে তখন হলান্ডরা উৎসবে মাতোয়ারা। উৎসব মানে ঢুল বাজিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদযাপন! যে উৎসব এর আগে দেখেনি কেউ। একাই দুই গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয়া হলান্ডের যেন কোন অনুভূতিই নেই! নেই তাঁর সতীর্থদেরও। হয়তো সেটা জমিয়ে রেখেছিলেন ব্যতিক্রমী কিছুর জন্য। ম্যাচ শেষের প্রায় দশ মিনিট পর মাঠে এলো একটা ঢুল আর একটা বড় কাঠি! নরওয়ে দলের সবাই বসে আছেন একটু দূরে। তাঁদের স্বপ্ন পুরনের নায়ক হলান্ড দাঁড়িয়ে আছেন ঢুলের কাছেই। একটু পর সেই ঢুলে বাড়ি দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে যেন উৎসবে মাতিয়ে তুলেন হলান্ড। নৌকা বাওয়ার মতো করে একটা উদযাপন মাঠ ছাপিয়ে গ্যালারীতেও। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য ঐতিহ্যবাহী ভাইকিং রো’তে উদযাপন করলো নরওয়ে।

ব্রাজিল- নরওয়ে ম্যাচের ভাগ্য আসলে লেখা হয়ে গিয়েছিল ১৪তম মিনিটে। ম্যাথিউস কুনিয়াকে নিজেদের পেনাল্টি বক্সে ফেলে দেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও রিভিউ দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারী। সবারই ধারনা ছিল স্পট কিক নেবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু বল হাতে নিয়েও ভিনিসিয়ুস তুলে দেন ব্রুনো গিমারেসের হাতে! ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যে মাঠে নামার আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন কে নেবেন পেনাল্টি। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি গিমারেস। তাঁর দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ে গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ড। এই পেনাল্টি মিসে গিমারেস ফিরিয়ে আনলেন ৪০ বছর আগের সাদা পেলে খ্যাত জিকোর স্মৃতি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন জিকো। ব্রাজিলও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে। ৪০ বছর পর জিকোর ছায়া ভর করলো গিমারেসের ওপর! তবে পেনাল্টি মিসের পরও ব্রাজিল গোলের জন্যই খেলেছে। সুযোগও এসেছে বেশ কয়েকটি। কিন্তু কাল দিনটা কোনভাবেই ব্রাজিলের ছিল না! না হলে কেন স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার চুক্তি না বাড়িয়ে ছেড়ে দেয়া গোলরক্ষকই হয়ে উঠবেন চীনের প্রাচীর! একটা, দুইটা নয় অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল থেকে নরওয়েকে বাঁচিয়েছেন গোলকিপার নিলান্ড। পেনাল্টি দিয়ে শুরু, যার শেষ গোলপোস্টের এক কোন থেকে আরেক কোনে নিজেকে শূণ্যে ভাসিয়ে নিয়ে বল বাইরে পাঠানো! এমন একজন অতিমানব হয়ে উঠলে স্বয়ং পেলে এসে নামলেও তো ব্রাজিলকে জেতানো কঠিন! নিলান্ডের একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে সম্ভাবনা বাড়ে নরওয়ের। বলের দখলেও নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁদের। কিন্তু ব্রাজিল সীমানায় গিয়ে আটকে যায় নরওয়ের সকল আক্রমণ। শেষপর্যন্ত সেই হলান্ডই এলেন ত্রাণকর্তা হয়ে। ৭৯ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে মাথা লাগিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে নেন ম্যানসিটি তারকা। তবে কে জানতো হলান্ড শো তখনো বাকি। ৯০তম মিনিটে বক্সের মাথা থেকে এক ডিফেন্ডারের পায়ের নিচ দিয়ে দুর্দান্ত এক শট নেন নরওয়ের স্বপ্নের নায়ক হলান্ড। এ্যালিসন ঝাঁপিয়ে পড়েও গোল বাঁচাতে পারেননি। ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ দিতে পারেন নেইমার। তবে ব্রাজিলের এই গোল আসে এমন এক সময়ে যখন ম্যাচ প্রায় শেষ! হলান্ড আর নিলান্ড মিলে ব্রাজিলকে থামিয়ে দিলেন বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৪
  • ১২:০১
  • ৪:৩৭
  • ৬:৪৮
  • ৮:১৪
  • ৫:১০