
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ছবি আমার সিলেট
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ১০ দিন পার হলেও এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি মু. রেজা হাসান। নতুন কর্মস্থলে তাঁর যোগদানে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এ ব্যাপারে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, ‘ডিসির যোগদান বা না–যোগদানের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। আমাদের এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই।’
এদিকে সরকারদলীয় স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে মু. রেজা হাসানের নিয়োগ স্থানীয় একজন মন্ত্রীর মনঃপূত হয়নি। বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ কারণে নতুন করে সিলেটের জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
তবে এ দাবির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে তাঁর প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে নতুন জেলা প্রশাসকের নামও জানানো হয়নি।
এর এক সপ্তাহ পর, ২৮ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর তিনি কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সিলেটে যোগ দেননি।
ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দায়িত্ব পালনকালে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)–এর মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ।
গত ১২ জুন তিনি দুই মাজার পরিদর্শন করে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরপর ১৮ জুন প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারে থাকা পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দানের অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই উদ্যোগটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। আবার অনেকে ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা ও প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন।
এসব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী পরে গণমাধ্যমকে বলেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ বা ‘রুটিন ওয়ার্ক’।
প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, নতুন জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণে এত দীর্ঘ সময় লাগা অস্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর কয়েক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।
তবে মু. রেজা হাসানের ক্ষেত্রে ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও যোগদান না করায় সিলেটের প্রশাসনিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে আরেকজন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা নতুন প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি। ফলে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আমারসিলেট/এমএসএস



