
প্রবাসীদের ফাঁকা পড়ে থাকা বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) ওসমানীনগর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন ও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ফাঁকা বাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনসার সদস্যের মাধ্যমে বাড়ি পাহারার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সিলেট অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিদেশে বসবাস করেন। তাদের অনেক বাড়িঘর বছরের পর বছর ফাঁকা থাকে। এসব বাড়ি ও জমি দখল কিংবা চুরির অভিযোগও প্রায়ই উঠে আসে। এ কারণে প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নকাজের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। অধিকাংশ স্থানে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের নিজ করুয়া এবং সাদিপুর ইউনিয়নের গজিয়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা আবেদন করলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।
এর আগে বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে সফর শুরু করেন জেলা প্রশাসক। পরে তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সহায়ক উপকরণ এবং উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, উপজেলা ভূমি অফিস, তাজপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ওসমানীনগরের এসওএস শিশু পল্লী পরিদর্শন করেন। সফরকালে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে, ওসমানীনগর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সামছুন নাহার জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



