
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রদলের দুই নেতার শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পলিটিক্যাল স্টাডিজ, পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, “আমরা পরিসংখ্যান বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের এক বন্ধুর পক্ষে কিছু কথা বলতে এসেছি। গত ১৮ জুলাই সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুলের সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, আমরা অকপটে স্বীকার করছি যে সেটি অন্যায় ছিল। আমাদের বন্ধু নিজেও তার ভুল স্বীকার করেছে, ঘটনাটিকে অপরাধ হিসেবে মেনে নিয়ে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছে এবং গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছে। নিজের দায়-দায়িত্বও সে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেনি।
তিনি বলেন, “ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, আমরা সেটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাচ্ছি। একজন শিক্ষার্থীর এই পর্যায়ে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন বছরের নিরলস পরিশ্রম, পরিবারের ত্যাগ ও অবদান জড়িত থাকে। বর্তমানে সে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার পরিবারেরও অনেক প্রত্যাশা ও দায়িত্ব তার ওপর নির্ভর করছে।”
তিনি আরও বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, তাকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া হোক এবং শাস্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক। একই সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুল এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, তারা যেন তার ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার ও পরিবারের কথা বিবেচনা করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখেন। আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, সংঘটিত ঘটনাটি অন্যায় ছিল। তবে মানবিক বিবেচনায় তার শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় হাসান বলেন, “গত ১৮ জুলাই সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি নিয়ে আমরা কোনো অভিযোগ জানাতে আসিনি। আমাদের একমাত্র দাবি হলো, আমাদের বন্ধুদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।”
তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে চলাফেরা করেছি। আমাদের অভিজ্ঞতায়, ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাটি মুহূর্তের উত্তেজনা থেকে সৃষ্টি হওয়া একটি হাতাহাতির ঘটনা। তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় যে শাস্তি দিয়েছে, সেটি কিছুটা শিথিল করে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার, তার পরিবারের ত্যাগ ও ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন যেন তাকে আরেকটি সুযোগ দেয়—এটাই আমাদের দাবি। আমাদের অন্য কোনো অভিযোগ নেই। কে বেশি বা কম দোষী, কিংবা কে বেশি বা কম হাতাহাতি করেছে, সে বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা শুধু আমাদের বন্ধুদের ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শাস্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা তারেক রহমান ও হাসিবুর রহমানকে চার সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বহিষ্কারকালীন সময়ে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া তারেক রহমানের শাহপরাণ হলের আবাসিক সিট বাতিল এবং ভবিষ্যতে হলে সিটের জন্য আবেদনও আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।



