চুপ্পুর পদত্যাগ গুঞ্জন

পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দৌড়ে শীর্ষ আমলার নাম!

পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দৌড়ে শীর্ষ আমলার নাম!

বর্তমানে চুক্তিতে নিয়োজিত একজন শীর্ষ আমলার নাম পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে ওই আমলাকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।

মূল প্রশ্ন হলো, ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি ওই জ্যেষ্ঠ আমলাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে, তবে তিনি কি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা রাখবেন? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় দেশের সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আইনি ব্যাখ্যায়।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের ৪(খ) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন।

এখন প্রশ্ন হলো, ওই আমলা কি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? আরপিও-র ১২(এইচ) ধারা অনুযায়ী এর উত্তর হলো ‘না’। এই ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর যদি কেউ চুক্তিতে নিয়োজিত হন, তবে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বা বাতিলের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন।

সংশ্লিষ্ট ওই আমলা এখনো চুক্তিতে দায়িত্বরত আছেন। এমনকি তিনি যদি আজ পদত্যাগ করেন বা অবসরে যান, তবুও তাকে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। আরপিও-র ১২(এফ) ধারা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর সময় পার না হলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনের যোগ্য হবেন না।

সুতরাং, ওই প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের পছন্দের তালিকায় থাকলেও চুক্তিকালীন নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তাকে তিন বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কে হতে পারেন? গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

তবে কোনো ‘চমক’ অপেক্ষা করছে কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। ২০০২ সালে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তৎকালীন বিএনপি সরকার অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে বেছে নিয়েছিল, যা ছিল এক বড় চমক। একইভাবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার বড় বড় নেতাদের বাদ দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫১
  • ১২:০২
  • ৪:৩৭
  • ৬:৪৬
  • ৮:০৯
  • ৫:১৫