
জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন। সেই জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না। দোহাই লাগে আপনাদের জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না। আমরা প্রথমে আপনাদের পায়ে ধরে বলব, তারপর হাতে ধরে বলব। তারপরও যদি পায়ে ধরে, হাতে ধরে বললেও কথা না শোনেন, তাহলে ঘাড় ধরতে আমাদের এতটুকু হাত কাঁপবে না। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
জুলাই বিপ্লবের আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গঠিত বর্তমান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের এই ঐক্য শুধুমাত্র ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার জন্য হয়নি। শুধুমাত্র এই ১১টি রাজনৈতিক দলের ভাগ্য গড়ার জন্য আমরা ঐক্য করিনি। আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই যাত্রা।’
বিএনপিকে বন্ধু আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন আপনারা। তাই আপনাদেরকে আমরা বন্ধু মনে করি। বন্ধু মনে করে আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই, তেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিরও কল্যাণ চাই। তাই বলতে চাই, যে জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন, সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকবার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ ও অপসারণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ‘একটা প্রাণী আছে, যখন পানি খায় ঘোলা করে খায়। আমরা বলেছিলাম, শেখ হাসিনার দোসররা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে থাকতে পারে না। আজ যখন সে রাষ্ট্রপতির মসনদে বসে আপনাদের ছোবল মারতে উদ্যত হয়েছে, তখন স্পিকারকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে হাসপাতাল থেকে ডেকে এনে সেই চুপ্পুকে আপনারা বিদায় করলেন।’
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তাই জনগণের এই ভোটাধিকার ও গণরায় নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা চলতে পারে না। তাঁর ভাষায়, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।



