
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘সংবিধানে আঘাতের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। সেই জায়গায় শাবিপ্রবি ভবিষ্যতে ভূমিকা পালন করবে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মিনি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে ছাত্রসমাজ বারবার এগিয়ে এসেছে। ১৯৪৭ সালে, ১৯৭১ সালে এবং ২০২৪ সালেও ছাত্রসমাজের অবদান ছিল। সিলেটের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের আন্দোলনে শাবিপ্রবি একটি কেন্দ্র ছিল। শাবিপ্রবির একজন শহীদ রুদ্র সেন রক্ত ও জীবন দিয়ে লড়াই করেছেন। তিনি কেমন বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা আপনাদের কাছে ঋণ হিসেবে দিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দায় এবং দরদের রাজনীতি করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু যখন উপলব্ধি করেছেন যে এই সমাজের প্রতি আমার একটা দায় আছে, তখন রাজপথে নেমেছেন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাই আমাদের থেকে চলে গেছেন। আমরা অনেক শহীদ পরিবারের কাছে যাচ্ছি। তারা খুবই কষ্টে আছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। তাদের মা-বাবা বলছে, সন্তানের বিচার আমরা বাংলাদেশের মাটিতে পাবো। সেই প্রত্যাশার জায়গাটা আমরা দেখতে পারছি না।’
আহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন এবং কেউ কেউ দেশের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব মানুষের দায়িত্ব আমাদের ওপর রয়েছে। রাজনীতি কতটুকু করা হবে, সেটা আলাদা বিষয়; কিন্তু বাংলাদেশের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।
দেশের কর্মসংস্থানের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা এখানে যারা আছেন, আপনারা হলফ করে বলতে পারবেন না যে ঠিক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হওয়ার পরেই আপনার একটা ভালো চাকরি হবে।’
শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাকরির জন্য যারা ঢাকায় যাবেন, তারা সরকারি বা বেসরকারি যেখানেই চাকরি করুন, যাতে থাকার ও সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেটের বিত্তবানদের নিয়ে একটি ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়টি চিন্তা করতে পারে। ওই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া যেতে পারে। এতে অনেক শিক্ষার্থীকে স্বাবলম্বী করে দেওয়া সম্ভব হবে।
সিলেটকে কর্মসংস্থান ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এখানে অনেকগুলো কারখানা তৈরি করতে পারে। ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান ও হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজের সুযোগ পাবেন।
শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাবিপ্রবিতে নিয়মিত শাকসু নির্বাচন হতে হবে। আর এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিনিধি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যারা কারো কাছে নিজের মগজ বিক্রি করবে না এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করবে।
নারীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী। নারীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার পর তারা চাকরি করতে পারেন। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে সমন্বয় করা গেলে জীবন ভারসাম্যপূর্ণ হবে। নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
শাবিপ্রবির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জাস্ট স্টিয়ারিংটা হাতে নিলেই হবে। শাবিপ্রবি এখান থেকে নেতৃত্ব দিলে দেখবেন ঢাকার চেয়ে শাবিপ্রবি অনেক এগিয়ে যাবে এবং সিলেট এগিয়ে যাবে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এই ১ হাজার ৪০০ ভাই যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের বিচারটা বাংলাদেশে কমপ্লিট করা আমাদের প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কারটা কমপ্লিট করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয়, আপনার ভবিষ্যৎ নাই, আমার ভবিষ্যৎ নাই, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নাই, বাংলাদেশের কারো ভবিষ্যৎ নাই।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘সংবিধানে আঘাতের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। সেই জায়গায় শাবিপ্রবি ভবিষ্যতে ভূমিকা পালন করবে।’



