সিলেট অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা-এর নির্বাচন আজ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিআইএএম (BIAM) ফাউন্ডেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার ২০০ আজীবন সদস্যের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের মানুষের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অসহায় মানুষের সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি সিলেটবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সংগঠনটির শাখা ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে সি এম কয়েস সামি এবং অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদারের নেতৃত্বে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ৩৫টি পদের বিপরীতে ৭৩ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন চায় সামি, পরিবর্তন লক্ষ্য কামরুল প্যানেলের।

আরও পড়ুন

প্রত্যাবর্তনের জন্য জোর প্রচারণায় সামি-মুন্না প্যানেল

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থীরা মোবাইল ফোন, এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বাল্ক মেসেজিং এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। গত প্রায় দুই মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা, গণসংযোগ ও প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার অটোমেটেড ভোট ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হবে। একজন ভোটার দুটি ব্যালট পেপারে সর্বমোট ৩৫ জন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত ঘরে চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান করতে হবে।

আরও পড়ুন

কামরুল-এলাহী-জসিম-লোকমান প্যানেল চায় পরিবর্তন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ভোটাররা ব্যালট গ্রহণের সময় একটি লাঞ্চ কুপন পাবেন। ব্যালট সংগ্রহের জন্য ভোটারকে নিজের ভোটার নম্বর অথবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর জানাতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যালট পেপার সরবরাহ করবেন।

তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণের জন্য মোট আটটি বুথ থাকবে। এর মধ্যে নারীদের জন্য একটি পৃথক বুথ এবং প্রবীণ ভোটারদের জন্য একটি বিশেষ বুথ রাখা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেছে।

সিলেটবাসীর কাছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ঐতিহ্য, সৌহার্দ্য, সামাজিক নেতৃত্ব এবং বৃহত্তর সিলেটের ঐক্যের প্রতীক। ফলে এবারের নির্বাচনও উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *