
‘কুলাউড়া উপজেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’ ফ্রান্স উদ্যোগে প্যারিসের অদূরে লাকর্নোভ পার্কে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বনভোজন ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
স্বতঃস্ফূর্ত কুলাউড়া উপজেলাবাসীর উপস্থিতিতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের সহ অর্ধশতাধিক পরিবার অংশগ্রহণ করেন এই বনভোজন ও মিলনমেলায়।

গত রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যারিসের অদূরে লা কর্নভ পার্কে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত কুলাউড়াবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। দিনভর আনন্দ-উৎসব, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আবহ এবং প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পার্কটি যেন এক টুকরো কুলাউড়ায় রূপ নেয়।

ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত কুলাউড়া উপজেলাবাসী শেকড়ের টানে ছুঁটে আসেন এই মিলনমেলায় প্রথমে সবাই একে অন্যের সাথে কৌশল বিনিময় করেন এবং একে অন্যের খুঁজ খবর নেন এবং আনন্দ মুখরিত ভালোবাসা আর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয় বনভোজন ও মিলনমেলা। দুপুর ১২ ঘটিকা হইতে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৮টায় সমাপ্তি হয়। বিভিন্ন রকম আনন্দ ও বিনোদমূলক আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাকজমক এবং আনন্দে ভরপুর ছিল। কুলাউড়া উপজেলা বাসীর পরিবার ছাড়াও কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পরিবার পরিজন, শিশুকিশোর এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ করেন।

কুলাউড়া উপজেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’ ফ্রান্সের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিকী মতিনের সভাপতিত্বে এবং খাঁন জিলু’র সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আতিকুর রহমান আতিক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল হান্নান কুটি, মিজানুর রহমান, খায়রুল আমীন খসরু, সামসুজ্জামান জালাল, জসিম মিয়া প্রমুখ্য।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা এম,এ, বার তাহের ও সালেহ আহমেদ চৌধুরী এবং পারবেজ রশিদ খাঁন, লুৎফুর রহমান শাহান সহিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা জানান, এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ময়নুল ইসলাম।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দের যৌথ পরিচালনায় বিভিন্ন ধাপে দিনব্যাপী এ আয়োজনে মধ্যান্যভোজ ছাড়াও পুরুষ মহিলা ও শিশুদের নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসে নানান কাজের ব্যস্ততায় পরিবারগুলো যখন একত্রিত হয়ে উৎসবে মিলিত হয় তখন এক অন্যরকম অনুভূতি সবার মাঝে লক্ষ্য করা যায়। খেলাধুলা সহ বিভিন্ন রকমের বাহারি আয়োজনে সাজানো হয়েছে এই আনন্দের মহাউৎসব।

বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা খেলাধুলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পুরুষদের জন্য ফুটবল খেলা ও হা-ডু-ডু এবং মহিলাদের জন্য বালিশ খেলা ও চেয়ার প্রতিযোগিতা এবং শিশু কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা ও লং দৌড় এবং ছোট্টমণিদের জন্য লং দৌড় এবং মিনি গোল ও মোরগের লড়াই ইত্যাদি।
এবং অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ১০টি আকর্ষনীয় পুরস্কার সম্বলিত ‘র্যাফেল ড্র’ সবাই অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী সকল বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়

অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যে বিশেষ অবদান রাখায় জন্য সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যদের মধ্যে সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বনভোজনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পরিবারের হাতে একটি করে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উপস্থিত প্রতিটি শিশু কিশোরদের হাতে বিভিন্ন খেলাধুলা সামগ্রী উপহার বিতরণ করা হয়।



