কানাডার সাসকাচুয়ানে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব সাসকাচুয়ানের বার্ষিক বনভোজন। এতে সিলেটি ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রোজটার্ন ভ্যালি রিজিওনাল পার্ক পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
গত ২৬ জুলাই (রোববার) সাসকাটুনের অদূরে অনুষ্ঠিত এ বনভোজনে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রবাসী অংশ নেন। সিলেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবাসীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
.jpg)
এবারের বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি অত্যাধুনিক গাড়ি, যা সাসকাচুয়ানের বাংলাদেশি কমিউনিটির কোনো বনভোজনে প্রথমবারের মতো দেওয়া হয়েছে বলে জানায় আয়োজকরা। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল ৬৫ ইঞ্চির একটি স্মার্ট টেলিভিশন।
এছাড়া দিনব্যাপী ছিল স্থানীয় শিল্পীদের লাইভ সংগীত পরিবেশনা, আকর্ষণীয় প্রবেশদ্বার, ঐতিহ্যবাহী সিলেটি খাবার এবং নানা ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন।
বনভোজনে শিশুদের চকলেট দৌড়, বড়দের ফুটবল, দম্পতিদের বল নিক্ষেপ, নারীদের সুই-সুতা প্রতিযোগিতা এবং মিউজিক্যাল বালিশ বদলসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নেন অতিথিরা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।
.jpg)
এবারের আয়োজনে সাসকাচুয়ানের সিলেটি কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কামনাশীষ দেব, বজলুর রশীদ সুইট এবং সাদিকুর রহমানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আয়োজকরা বলেন, কমিউনিটির প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাদিকুর রহমান, কামনাশীষ দেব, বজলুর রশীদ সুইট, প্রিয়াঙ্কা নন্দী, দেবাশীষ দেব, ফারুক হুসাইন, টগর হুসাইন, সোহেল হাওলাদার, শাব্বির কাপুর, শেখ কামাল, সাইয়েদ আহমেদ, শরিফুজ্জামান, শাখাওয়াত হুসাইন ও ওমর শরিফ।
এছাড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুসাইন আহমেদ, আমরান আহমেদ, সৈয়দ আলীমুজ্জামান, ফলিক আহমেদ, সিদ্ধার্থ ঘোষ, আহমেদ শাহ জাকের শাকু, আব্দুল্লাহ সাকিব মারুফ, নোমান আহমেদ, আব্দুল আলীম সানি, ঝিমলি দাস, তাপসী দাস, সৈয়দ সাইমন, মাহবুবুর রহমান, তানজিলুর রহমান, একেএম শাহিন, ইমরান চৌধুরীসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পী পঙ্কজ দেব ও মীর।
সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের নেতারা উপস্থিত সবাই, স্বেচ্ছাসেবক, স্পন্সর ও শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ বনভোজন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ঐক্যই এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।



