মারাত্মক ঝুঁকিতে তবুও কুশিয়ারা নদীর ডাইকের ভেতরে বসবাস করছেন অতিদরিদ্র এক পরিবার।
অন্যের অর্থাৎ ফারুক ভাইয়ের দানকৃত পাকাঘরটিও ডিক দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছেন! সম্প্রতি ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, ইউএনও, সার্কেল, বিজিবির সুবেদারসহ আমরা সীমাহীন ঝুঁকিতে থাকা পরিবার দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। বলছিলাম শুধু এই পরিবার নয়, এভাবে হাজার হাজার পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন ডাইকের ভেতর। এই সুরমা কুশিয়ারা নদী ভাঙনে অসংখ্য অগণিত মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে। হাইদ্রাবন্দের মসজিদ নদীতে অনেকটা চলে যায়। পরে অন্যত্র মসজিদ নির্মাণ করা হয়। নতুন ভাঙন দেখা দিয়েছে আমেরিকা প্রবাসী, আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা আবিদ ভাইয়ের বাড়ির পাশে। জকিগঞ্জ বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব ভেঙে গেছে। উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার-জকিগঞ্জ পৌর শহর ঝুঁকিতে রয়েছে। সেদিন আমরা উপরোক্ত বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট বলেছি।
জকিগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের হাইদ্রাবন্দ গ্রামের হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলিম হওয়া সেলিম আহমদের পরিবারের খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। সেলিম বললেন আমিসহ আমার মা ও বোন মুসলমান হয়েছি, বেশ কয়েকবছর আগে। হাতিডহর গ্রামে ছিল তাদের মূল বাড়ি। শ্রমিক হিসেবে কাজের সুবাদে জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় তাঁর আসা। তিনি এখনও শ্রমিকের কাজ করে মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান মিলে ৬ জনের পরিবারের জীবীকা নির্বাহ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আজ রাতে কথা বললাম। তিনি বলেছেন তাঁর পরিবার মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ ঐ ঘরে থাকা উচিত নয়। সরকারি জায়গা পেতে আবেদন করা হলে, তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
কিন্তু সেলিম যাবেন কোথায়? এক ইঞ্চি জায়গা যার নেই, সে কোথায় যাবে? আত্মীয় স্বজন বা প্রতিবেশী কতদিন রাখবে চরম বিপদগ্রস্ত ঐ পরিবারকে।



