সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এককভাবে একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে না। সমাজের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলো মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করলে তা সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সিলেট নগরীর সারদা স্মৃতি ভবনে ‘সিলেট বিবেক’র ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, দেশের বড় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। একইভাবে নগর, শহর কিংবা মফস্বল এলাকায় সামাজিক সংগঠনগুলো মানুষের সহযোগিতা নিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ালে ওই এলাকার জনগণও উপকৃত হন।

তিনি বলেন, ‘সিলেট বিবেক’ও মানবসেবায় কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারা শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও সমাজ পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট বিবেকের মতো সামাজিক সংগঠনগুলো যত বেশি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে, সমাজের জন্য তত বেশি কল্যাণকর কাজ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের সংগঠনের কার্যক্রমকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করা হয়। নগরবাসীর কল্যাণে সিসিকের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগও প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, “সিলেট বিবেক আগামী দিনে আরও বিস্তৃত পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে আমি আশা করি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগর নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজ করে। সামাজিক সংগঠনগুলোও যদি তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরবাসীর কল্যাণে এগিয়ে আসে এবং সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে আমরা তাদের সহযোগী ও সহযাত্রী হিসেবে পাশে থাকব।”

সিসিক প্রশাসক ‘সিলেট বিবেক’র ১৭ বছরের পথচলার প্রশংসা করে সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সাফল্য কামনা করেন।

‘সিলেট বিবেক’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর অরুণ চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে এবং বাচিক শিল্পী শাশ্বতী পাল সোমা ও লেখক বিনয় ভূষণ তালুকদারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের সম্পাদক স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সমাজসেবী জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, উত্তরা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত জিএম ও সমাজসেবী নীরেশ চন্দ্র দাশ, প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, সহসভাপতি সুব্রত দেব, সাধারণ সম্পাদক শীলা সাহা ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কৃষ্ণপদ সূত্রধর।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব স্বপন পাল চৌধুরী। বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাপেক্সিয়ান চন্দন দাশ, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাপেক্সিয়ান জিডি রুমু, কবি সুমন বণিক ও আজীবন সদস্য দীপক কুমার দাশ।

প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ। অনুষ্ঠানে সন্ধানী সিলেটের সহযোগিতায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে ৩৬ জন অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি বিতরণ করেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত পরিষদের নির্বাহী সদস্য প্রদীপ কুমার দে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *