সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত রুটিন অনুসরণ না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজস্ব সিদ্ধান্তে বাংলা পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) থেকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী সোমবার (২৪ আগস্ট) সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আর বাংলা পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ নির্ধারিত রুটিনের পরিবর্তে সোমবার বিদ্যালয়ের ১ম ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পরীক্ষা নেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত রুটিন অমান্য করে আগেভাগে বাংলা পরীক্ষা নেওয়ার ফলে প্রশ্নপত্র আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে মূল্যায়ন পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

তারা অভিযোগ করে বলেন, হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেয়া হয়েছে তার পূর্বের কর্মকাণ্ড ও আচার ব্যবহারের কারনে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস থেকে তিরস্কার পেয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপ্লব পীর বলেন, রুটিন অনুযায়ী সোমবার ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাংলা পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় ১ম ও ২য় শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, ছাত্রছাত্রীরা একদিন ছুটি পাবে। তাই আমি বাংলা পরীক্ষা নিয়েছি। আমি ভালো মনে করেছি, তাই এ কাজ করেছি। আপনি পারলে আমার বিরুদ্ধে একটি নিউজ করেন।

 

শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত রুটিনের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই উপজেলার সব বিদ্যালয়ে একই সময়সূচিতে মূল্যায়ন পরীক্ষা চললেও একটি বিদ্যালয় কীভাবে নিজস্ব সিদ্ধান্তে ভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষা নিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়া বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *