দক্ষিণ সুরমায় দুই সড়কে প্রাণহানী বেড়েই চলেছে

শরীফ আহমদ, দক্ষিণ সুরমা থেকে :
দক্ষিণ সুরমায় দুই সড়কে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট থেকে সাদিপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক পথের মোট দূরত্ব প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক বেহাল দশা। ভারী বৃষ্টির সাথে ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে প্রায় প্রতিদিন ঢাকা-সিলেট সড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লা বাসগুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গর্ত থেকে রেহায় পেতে বেশি ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে এ দুর্ঘটনার বেশি হয়ে থাকে।
সিলেট সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা যায়, সড়কে বড় বড় গর্তে ইট ছলিং দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কয়েক পরেই ইট ছলিং উঠে আবারো গর্তের সৃষ্টি হয়। গত ১৫ দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১৯ জনের প্রাণহানী হয়েছে। সম্প্রতি ওসমানী নগর ও লালাবাজার এলাকায় গর্তের কারণে বাস ও ট্রাক দুর্ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়াও সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ঢাকাদক্ষিণ পাহাড় লাইন আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন সিএনজি আটোরিক্সা ও লেগুনা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গর্ত থেকে বাস রক্ষা করতে গিয়ে অটোরিক্সার (সিএনজি) সাথে ধাক্কা লাগায় সিএনজি চালক নিহত ও বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এই সড়কের মোগলাবাজার থেকে কটালপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সিএনজি অটোরিসা ও লেগুনা গাডি সহ ছোট বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সিলেটের প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশিদ চত্বর, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক, সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা পয়েন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এদিকে নজর দিচ্ছে না।
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী একজন শিক্ষক বলেন, সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ঝুঁকি নিয়ে রোগীবাহী গাড়ি, শিক্ষার্থী, পথচারী সহ জনগণ চলাচল করছেন। বিশেষ করে রাতে অনেক গাড়ির লাইটের আলো কম থাকে, সেই সময় বেশি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বড় ধরেন দুর্ঘটনা ঘটার আগে দ্রুত সড়কের গর্তগুলো সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।
যানবাহন চালক রুহুল আমিন জানান, সড়কের অবস্থা খুব খারাপ থাকার কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। এছাড়া একাধিক বড় বড় গর্ত দিয়ে গাড়ি চালানো আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে হরহামেশা।
এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী এক যাত্রী সম্প্রতি ভাঙা সড়কে রিকশা উল্টে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলাম। সামনের দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে জায়গা দিতে গেলে সড়কের ভাঙা অংশের গর্তে চাকা পড়ে আমাদের অটোরিকশা উল্টে যায়। আমি সহ অটোর পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছি।
এদিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলকি সড়কের পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমার ৮টি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো বেহাল অবস্থা। যান চলাচল বন্ধ হওয়া পথে। দক্ষিণ সুরমা সচেতন নাগরিকবৃন্দ গ্রামীণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়ে বলেন, আমাদের এলাকার কয়েকটি কালভার্ট নিজের উদ্যোগে মেরামত করা হয়েছে।
সড়কগুলোর বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ থাকার কারণে দুর্ঘটনার পাশাপাশি গড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে ও এক্সে ভাঙ্গার কারণে মালিকগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এব্যাপারে সড়ক ও জনপদ সিলেট অফিসে যোগাযোগ করা হলে, নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোঃ সাদ্দাম হোসেন জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গর্তগুলো ইট ছলিং দিয়ে মেরামত করা হলেও নিয়মিত বৃষ্টি কারণে তা টিকে থাকছে না। বৃষ্টি মৌসুম শেষ হয়ে স্থায়ী ভাবে মেরামত করা হবে।

 

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৪
  • ১১:৫৮
  • ৪:২৮
  • ৬:২২
  • ৭:৩৮
  • ৫:৩০