সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৮৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জিয়াউর রহমানকে (৩২) কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ওই বৃদ্ধকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় জিয়াউর চার নম্বর আসামি।

শুক্রবার রাত আটটার দিকে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার বাজগড্ডা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জ ও র‍্যাব-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান দোয়ারাবাজার উপজেলার হাবিবনগর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইসমাইল মিয়া সৌদি আরবে থাকেন। এ কারণে তার স্ত্রী হোছনা বেগম সন্তানদের নিয়ে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে বসবাস করতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মোহাম্মদ আলীর নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য হোছনা বেগম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় তাকে চাপ দিতেন। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পরে মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, হোছনা বেগম ২ নম্বর আসামি রুহুল আমিনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে যান। পরে হোছনা বেগমের সহযোগিতায় তারা ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় নিহতের নাতনি বাদী হয়ে ১৬ আগস্ট দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় পেনাল কোডের ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৪।

মামলা হওয়ার পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব-৯। এর আগে ১৮ আগস্ট মামলার এজাহারভুক্ত অপর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব-৯-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *