সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তের মুসলিম পাড়া এলাকায় দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সিলেট ৪৮ বিজিবির অধিনস্ত বিছনাকান্দি বিওপির ভিআইপি রুজ্জেল ও হারুন আহমেম নামে দুই বিজিবির সদস্যের বিরুদ্ধে।
আহত ওই যুবকের নাম আল আমীন (২৪)। তিনি উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ঝারিখাল কান্দি গ্রামের মৃত সফি উল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া মুসলিম পাড়া গ্রামের রাজিবের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা ও তার আত্মীয়রা আহত আল আমিন কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত আল আমিন মুসলিম পাড়া গ্রামের রাজিবের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিছনাকান্দি বিওপির ‘ভিআইপি’ রুজ্জেল ও হারুন দুই বিজিবি সদস্য সেখানে এসে তাকে লাঠি দিয়ে বেদরক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে আল আমীন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মারধরের কারণ জানতে চাইলে ওই দুই বিজিবি সদস্য আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলটি সীমান্ত এলাকা থেকে ছয়শত মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সেখানে চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন যুবককে এভাবে মারধর করতে পারেন না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ওই বিজিবি সদস্য ভিআইপি রুজ্জেল বিছনাকান্দি ক্যাম্পে আসার পর থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিনে আগে দুইজন শ্রমিক কে মারধর করে আহত করা এবং সীমন্ত থেকে দেড় কিলোমিটার দুরে বাড়ির সামনে রাস্তায় থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে ওই ভিআইপি রুজ্জেল।তারা আরোও বলেন,চোরাচালানে জড়িত থাকলে আটক করে আইনের আওতায় নিতে পারতেন কিন্তু এভাবে মারধর করে আহত করা কি ঠিক? বিজিবির উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহবান জানান তারা।
এদিকে আহতের ছোট রোহুল আমিন জানান, মুসলিম পাড়াদোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমার ভাইকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে বিজিবি।আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট হাসপাতালে ভর্তি করে বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন আছে।
অভিযোগ অস্বীকার বিছনাকান্দি বিওপির দায়িত্বরত ভিআইপি হারুন আহমেদ বলেন, বিছনাকান্দি পর্যটন স্পটের পাশে একটি ভারতীয় জিরা ভর্তি নৌকা আটক করি।ওই সময় চোরাকারবারিরা আমাদের সাথে চরম বেয়াদবি করেছে। সেখান থেকে দুজন মোটরসাইকেল যুগে ফেরার পথে গতি রোধ করে আবার চিল্লাচিল্লি এবং ধর- মার বলতে শুরু করেছে।তাদের চিল্লাচিল্লিতে অনেক লোক জড়ো হয়।পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের কে ধাওয়া দিলে এসময় উষ্ঠা খেয়ে পরে গিয়ে তার হাঁটু ছিড়ে গেছে।পরে আমরা চলে আসি।
বিছনাকান্দি (বিওপির) ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দীন বলেন,বিছনাকান্দি পর্যটন স্পটে ২৫ থেকে ৩০ বস্তা ভারতীয় জিরা আটক করি।ওখানে ওরা অনেক হুই- হুল্লা করেছে বাসি ফু দিতে থাকলে লেভার পালিয়ে যায়। নৌকা দিয়ে জিরা নিয়ে নদীপথে ক্যাম্পে চলে আসি। অন্যদিকে ভিআইপি রুজ্জেল ও হারুন দুই বিজিবি সদস্য মোটরসাইকেল যুগে মুসলিম পাড়া মসজিদের দিকের রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পে যাওয়ার পথে দোকানের সামনে গেলে চোরাই কাজে জড়িত লেবার গতি রোধ করে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ক্যাম্প কমান্ডার আরও বলেন, তাকে মারধর করা হয়নি।এ ঘটনা কে কেন্দ্র বহিরাগত শতাধিক লেবার মিছিল করতে করতে আহত একজন কে নিয়ে ক্যাম্পের সামনে এসে মিছিল শুরু করে। এসময় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তারা চলে যায় । মূলত চোরাচালানের মালামাল আটকের কারনেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হক বলেন, ভারতীয় জিরার নৌকা আটক কে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টি করতে চেয়েছিল তারা। আমার লোকজন কে বলা আছে কারো গায়ে আঘাত করবে না আইন আছে আইনেই দেখবে।
তিনি বলেন, বিজিবি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হয়ে কেন আরেক জনকে মারধর করবো।এটা আমার পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে।এটা সাজানো নাটক মুলত তারা বিজিবির সুনামক্ষুন্ন করার জন্য এবং তাদের কিছু স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা এই কাজটি করেছে।
তবে ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে সনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



