দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সংঘর্ষে একজন নিহতের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকানোর কথা বলে কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে খাসজমি, জলমহাল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। গত ১২ মে সংঘর্ষে শাহাদ্বীব আলীর পক্ষের রতন মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় ১৬৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর প্রতিপক্ষের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে গেলে তাদের বাড়িঘরে পর্যায়ক্রমে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত এবং গরু-ছাগল, ধান, আসবাবপত্র, নৌকা ও মাড়াই মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ১৫/২০ টি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন দাবি করেন, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট না করার কথা বলে শাহাদ্বীব আলীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, পাঁচ পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।তাদের দেওয়া তথ্যমতে, রামনা বেগমের কাছ থেকে ৬০ হাজার, জাহানারা বেগমের কাছ থেকে ৫০ হাজার, সলখ নূরের কাছ থেকে ৪০ হাজার, রাজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার এবং রুসেদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী রামনা বেগম বলেন, ‘বাড়িঘর ভাঙবে না বলে ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও তাঁর পক্ষের লোকজন আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।
তবে টাকা নেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাদ্বীব আলী। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজনার বশে কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর হতে পারে। তবে লুটপাটের অভিযোগ সঠিক নয়।পুলিশের উপস্থিতিতে তারা মালামাল সরিয়েছে,ধান বিক্রি করেছে।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কয়েকটি ঘর, দরজা ও বেড়া ভাঙা এবং ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় দেখেছেন। ক্ষয়ক্ষতি ও সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি থানায় এলে যথাযথ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
১।আলীনগর গ্রামে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার একটি ঘর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *