ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করতে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণের সময়ই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আবেদনকারীরা।
দূতাবাস জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কমাতেই নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চালু হতে যাওয়া এ ব্যবস্থায় আবেদন ফরম পূরণের পর আলাদাভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
নতুন নিয়মে আবেদন ফরম পূরণের সময়ই আবেদনকারী নিজের সুবিধাজনক দিন ও সময় নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। এতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে দূতাবাস।
ইতোমধ্যে যারা ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করেছেন, তাদের আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া কী হবে এ বিষয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক নোটিশ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকটের কারণে এর আগে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দিতে বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম চালু করেছিল দূতাবাস। আগস্ট মাসে প্রতি বুধবার ওয়াক-ইন এবং শনিবার বিশেষ সেবার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীকে ই-পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ সালে এসব বিশেষ সেবার মাধ্যমে মোট ৯৯২ জন ই-পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ২৪৫ জনের পাসপোর্ট ইতোমধ্যে বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ২৬৮টি পাসপোর্ট প্রিন্টের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এ ছাড়া ৪৮৪ জন আবেদনকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় পরবর্তীতে তা দূতাবাসে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবেদনকারীরা যত দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন, তত দ্রুত তাদের নথি বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, কিছু আবেদনকারীর নথি অমুদ্রিত পাসপোর্ট ও রিভোকড-সংক্রান্ত কারণে পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে দূতাবাসে ফেরত এসেছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ই-পাসপোর্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ছিল। সীমিতসংখ্যক স্লটের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়া এবং অনলাইন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেকেই সময়মতো সেবা নিতে পারছিলেন না।
এ অবস্থায় আবেদন ফরম পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ চালু হওয়ায় প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের আবেদন ও নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে মনে করছে দূতাবাস।
সেবাপ্রার্থীদের নতুন ব্যবস্থাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাসের কনস্যুলার শাখা। ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রমে প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানিয়েছে দূতাবাস।



