এম.সাইফুর রহমানের ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী শনিবার

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম.সাইফুর রহমানের ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী (৫সেপ্টেম্বর,শনিবার)। ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালন করবে এম.সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ,মরহুমের পরিবার ও তার রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি।

এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মরহুম এম.সাইফুর রহমান কর্মময় জীবনে তার অনন্য গুণে মানুষের হ্রদয়ে ঠাঁই করে নিয়ে ছিলেন। তার সাদামাঠা ব্যক্তিগত জীবন মানুষের দৃষ্টি কাড়ত। ছিল না চাওয়া পাওয়ার অস্থিরতা। এমনকি উচ্চ আকাঙ্খা উচ্চ বিলাসিতাও পছন্দ ছিলনা একদমই। কথা বলতেন মারপ্যাচের জটিলতা ছাড়াই সরল সহজ আর ইংরেজী মিশ্রিত সিলেটি আঞ্চলিকতায়। একারণেই দেশ বিদেশে সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার।

দেশ দুনিয়ায় নাম কুঁড়ানো মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনের সেই ছেলেটি দেশের অন্যতম অর্থমন্ত্রী যিনি একনাঘাড়ে ১২ বার সংসদে বেশ সফলতার সাথে বাজেট পেশ করেছিলেন। কর্মে তার অনন্য গুণ তিনি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নও করতেন। এটাই তার অবিচল আস্থা বিশ্বাস আর কাজের প্রতি নিখাঁদ আন্তরিকথা ও কর্তব্যকর্মে দ্বায়িত্বশীলতার নজির।

নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেট বিভাগেই রয়েছে তার চোখ ধাধাঁনো  উন্নয়নের ছোঁয়া।

সংক্ষিপ্ত জীবনী: জন্ম ১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর, মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে। তার পিতার মোহাম্মদ আব্দুল বাছির,মাতার তালেবুন নেছা। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। মাত্র ৬ বছর বয়সে তার পিতা মারা যান। সে সময়ে তার অভিভাবকক্ত গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি।  শিক্ষাজীবন, গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৪৯ সালে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশনে উর্ত্তীণ হন। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আইকম পাশ করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারীস্টারী পড়ার জন্য লন্ডনে চলে যান। সেখানে পৌঁছার পর মত পাল্টে যায় তার। ব্যারিষ্টারীর পরিবর্তে পড়েন র্চাটার্ড একাউন্টেন্সি। ১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ফেলোশীপ অর্জন করেন।

এছাড়া তিনি আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন। বিবাহ: ১৯৬০ সালের ১৫ জুলাই  বেগম দূররে সামাদ রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ২০০৩ সালে তার স্ত্রী ইন্তেকাল করেন।  ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক মর্মান্তিক সড়ক র্দূঘটনায় নিহত হন। তার শেষ ইচ্চানুযায়ী বাহারমর্দনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) র’ প্রতিষ্টা লগ্নে দলটির প্রতিষ্টাতা জিয়াউর রহমান আপন করে ডাকলেন দল গঠনে অংশ নিয়ে দেশও জাতীর কল্যাণে নিবেদীত হতে। তিনি তাই করলেন। রাজনীতিতে এলেন আলোকিত করলেন আলোকিত হলেন।

১৯৯৬ সালে ষষ্ট ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন ও ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের ৮ই জুন তিনি সংসদে দ্বাদশ বাজেট পেশ করে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক বাজেট পেশকারী হিসেবে রের্কড গড়েন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন ছাড়াও দেশ-বিদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানগুলোতেও নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন কৃতিত্বের সাথে।

১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচী: ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এম.সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে  তার গ্রামের বাড়িতে কোরান খতম,মিলাদ,দোয়া,শিরনী বিতরণ।

অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান,দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ। এছাড়াও দলীয়ভাবে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের স্থানীয় জেলা,উপজেলার ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরাও নানা কর্মসূচী পালন করবেন।

 

 

আমারসিলেট/হা

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৮
  • ১১:৫৬
  • ৪:২৩
  • ৬:১৪
  • ৭:২৯
  • ৫:৩৩