জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাসের ভেতরে ইসমাইল হোসেনকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যা করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনার সত্যতা মিললে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাসচালক, সহকারী ও সুপারভাইজারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ফারুক হোসেন জানান, গত চার সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর থেকে জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি বাসে রওনা হন ইসমাইল হোসেন। পথে ইসমাইল বাসের ভাড়া মেটাতে গেলে তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে বলে দেখতে পায় বাসের চালক ও সহযোগীরা। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
বাসটি গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছানোর পর চালক ও সুপারভাইজার গাড়িটি ঢাকার দিকে নিয়ে যায়। সাধারণ সব যাত্রীকে গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার পর খালি বাসে ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়লে তাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একপর্যায়ে ঘাতকেরা ঘুমন্ত ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ গুম করতে মুখের অংশ স্কচটেপ পেঁচিয়ে রাতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে চার সেপ্টেম্বর সকালেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইলের মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না থাকায় প্রথমে লাশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিনতাই ছাড়া অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তিগত শত্রুতা জড়িত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



