ফের আলোচনায় ড. কেপিসি

ঢাকাদক্ষিণে বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

ঢাকাদক্ষিণে বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

দীর্ঘদিন পর আবারও আলোচনায় সিলেটের কৃতী সন্তান, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ধনকুবের ড. কালী প্রদীপ চৌধুরী (কেপিসি)। গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণের দত্তরাইল নিজ গ্রামে বিশ্বমানের চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণায় তার নাম আবারও আলোচিত হচ্ছে। নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কারণে। মন্ত্রীর আহ্ববানে সাড়া দিয়ে ড. কেপিসি ফের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ নিয়ে ‘আমার সিলেট’ ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও কালী প্রদীপ চৌধুরীর মধ্যে একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং সিলেটে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উঠে আসে।

৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালী প্রদীপ সিলেটে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সম্মতি জানিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

এর আগে ১ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কালী প্রদীপ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মন্ত্রী তাঁকে বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল নির্মাণের আহ্বান জানান এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জবাবে কালী প্রদীপ চৌধুরী বাংলাদেশে, বিশেষ করে সিলেটের মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এক দশক আগে শুরু হয়েছিল যে স্বপ্ন

কালী প্রদীপ চৌধুরীর সিলেটে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালের দিকে ঢাকাদক্ষিণে একটি বিশ্বমানের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

তৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামে নিজ পৈতৃক ভূমিতে বড় পরিসরে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই পরিকল্পনা আর এগোয়। দীর্ঘ বিরতির পর সিলেটে আবারও কালী প্রদীপের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল, নাকি সেই পুরোনো মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নতুন উদ্যোগটি কি কেবল একটি হাসপাতাল নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি একসময় আলোচিত বিশ্বমানের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর পরিকল্পনাও পুনরুজ্জীবিত হবে?

সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদগুলোতে আপাতত সিলেটে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই নিশ্চিতভাবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের ইতিহাস সামনে আসায় ঢাকাদক্ষিণে বৃহৎ চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস সাম্প্রতিক আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, কালী প্রদীপ চৌধুরী বাংলাদেশে এলে প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শনের কথাও তিনি বলেছেন। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেটের স্বাস্থ্য খাতে এর প্রভাব হতে পারে ব্যাপক।

আধুনিক হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে উঠলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের মানুষের ঢাকামুখী বা বিদেশমুখী নির্ভরতা কমে আসবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বদলে যেতে পারে ঢাকাদক্ষিণের অর্থনীতি। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, একটি বড় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এর সঙ্গে আবাসন, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবাখাতেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকাদক্ষিণে যদি ভবিষ্যতে হাসপাতালের পাশাপাশি মেডিক্যাল শিক্ষা, গবেষণা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে ওঠে, তাহলে এটি সিলেটের চিকিৎসা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘদিন আগে নেওয়া উদ্যোগটি এবার কতটা এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। জমি, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট পরিধি, বিনিয়োগের পরিমাণ, অনুমোদন, নির্মাণকাজ শুরুর সময়সূচি এবং হাসপাতালের পাশাপাশি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশিত।

দীর্ঘ এক দশক আগে যে স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল, সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেটিই যেন আবার সামনে এসেছে। এখন সিলেটবাসীর কথা একটাই—উদ্যোগ যেন আর আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দৃশ্যমান কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে ঢাকাদক্ষিণে বিশ্বমানের চিকিৎসা অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবরূপ পাবে, এমনটাই জনমনের প্রত্যাশা।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২১
  • ১১:৫৪
  • ৪:১৯
  • ৬:০৯
  • ৭:২৪
  • ৫:৩৫