বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেটে জালালাবাদ থেরাপি সেন্টার ও হাসপাতালের উদ্যোগে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হয়। দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ রোটারি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. শোয়েব আহমেদ মতিন, রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের প্রেসিডেন্ট লতিফা জাহাঙ্গীর, পিডিজি আতাউর রহমান, পিপি আলী আশরাফ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, জুনেদ আহমদ, মনসুর আহমদ লস্কর, মোসলেহ উদ্দিনসহ রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের সদস্যবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সইদুর রহমান, ডা. মামুনুর রশিদ, ফিজিওথেরাপিস্ট, টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘হৃদরোগ ও স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা’।
সভায় বক্তারা বলেন, স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু স্ট্রোক নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতেও ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। স্ট্রোকের পর অনেক রোগী স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায় এবং দৈনন্দিন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। নিয়মিত ও সঠিক ফিজিওথেরাপি এবং পুনর্বাসন চিকিৎসার মাধ্যমে এসব রোগীর শারীরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, ফিজিওথেরাপি একজন রোগীকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ফিরিয়ে এনে জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে। বর্তমানে হৃদরোগ ও স্ট্রোক বিশ্বব্যাপী মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে এসব রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী আগত রোগীদের বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।



