গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চার শিক্ষককে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চ এক্সিলেন্স’ দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ পেয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিদুর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের ২৩২ নম্বর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চার শিক্ষক হলেন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়েশা ফেরদৌস মিতা, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিসেস নাসিমা বেগম।
সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন আয়েশা ফেরদৌস মিতা। তাঁর গবেষণাটি ‘ক্লিনার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত এবং এর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৭.৩।
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম। তাঁদের গবেষণা ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৮.৭, এসজেআর ১.২৮৭ এবং এইচ-ইনডেক্স ২৪৭।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ড. মিসেস নাসিমা বেগম। তাঁর গবেষণাটি ‘রেজাল্টস ইন ইঞ্জিনিয়ারিং’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত এবং এর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৯.৪।
অন্যদিকে, ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ পাওয়া অধ্যাপক ড. শাহিদুর রহমানের সাতটি জার্নাল আর্টিকেল, ৩৯টি কনফারেন্স পেপার এবং ১২০টি সাইটেশন রয়েছে।
পুরস্কারের মূল্যায়নে জার্নাল আর্টিকেল, কিউ-ইনডেক্স, কনফারেন্স পেপার, গুগল স্কলারে সাইটেশন, পিএইচডি, এমএসসি ও বিএসসি পর্যায়ের গবেষণা তত্ত্বাবধান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান এবং জাতীয় স্বার্থে গবেষণায় অবদানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।
অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রসার এবং জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই গবেষণার কাজ শেষ হয় না; গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সফটওয়্যার, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
গবেষণার ফলাফল পেটেন্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। ভালো গবেষণা থেকে পেটেন্ট বা বাস্তব কোনো উদ্ভাবন তৈরি করা গেলে সেটিই হবে গবেষণার বড় সার্থকতা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পেটেন্টিং ও প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তরুণ গবেষকদের জ্ঞান ভাগাভাগির জন্য নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।



