নিজাম উদ্দিন সালেহ :

সিলেট নগরীতে পথকুকুর নিয়ে এক অদ্ভুত ও সন্দেহজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে পথকুকুরের উপদ্রব নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে, অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, সিলেট সিটি করপোরেশন বহু বছর ধরে পথকুকুর নিধন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। মাঠ পর্যায়ে কোনো টিম দেখা যায় না, কোনো প্রচারণাও নেই। অথচ এই নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেও গত কয়েক বছর ধরে বন্দর বাজার শিবগঞ্জ, সোবহানীঘাট, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ সহ বিভিন্ন এলাকা এবং বিভিন্ন গলি থেকে দলবদ্ধ পথকুকুর ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে একটি গলিতে দশ থেকে পনেরোটি কুকুর দেখা যেত, এখন সেখানে দুই একটির বেশি দেখা যায় না। এই অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া নিয়েই জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি নিধন না হয়, জন্মনিয়ন্ত্রণ না হয়, তাহলে কুকুরের সংখ্যা তো বাড়ার কথা, কমার কথা নয়। তাহলে কুকুরগুলো যাচ্ছে কোথায়?

এই ঘটনার সাথে অবিশ্বাস্য হলেও যে মারাত্মক গুঞ্জনটি ছড়িয়েছে তা হলো, নগরীর কিছু কিছু হোটেলের খাবার কিংবা কসাইয়ের দোকানে এই কুকুরের মাংস খাসির মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে কিছু মহলে আলোচনা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাই নাগরিক সমাজের দাবি, সিলেট সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করুক। গত পাঁচ বছরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে কী কাজ হয়েছে তার হিসাব প্রকাশ করা হোক এবং হোটেলগুলোর মাংসের উৎস পরীক্ষা করে জনমনের এই সন্দেহ দূর করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *