জুবায়ের আহমদ সাব্বির :গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের লামনী প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ইউনিটি ফাউন্ডেশন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, তাদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অনুপ্রেরণা জোগানোর লক্ষ্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় লামনী প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমরান আহমেদ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সহসভাপতি ওসমান গণি, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব আহমেদ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, বৃহত্তর রুস্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউনুস আলী, জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন ইমরান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালিক, যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, দেলোয়ার হোসেন ও জৈন উদ্দিন। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির সুমনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি ইমরান আহমেদ অতিথিদের সামনে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি লামনী প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে এখনো শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা একটি শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানায়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সালাউদ্দিন আহমেদ ও খাদিজা আক্তার। এ সময় ইউনিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তানহার হোসেন সিয়াম। বক্তারা শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইউনিটি ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে এবং ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁরা ভবিষ্যতেও ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত লামনী প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয় অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছরই বিদ্যালয়টি উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্ব ধরে রেখেছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। এ সাফল্য ধরে রাখতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের প্রতি আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁরা বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা নয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও বক্তারা জানান।
এ সময় বক্তারা অত্র এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতসহ স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন জরুরি বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, সন্তানদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানরা যেন কোনো ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং আগামী দিনেও ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি প্রদান, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ইউনিটি ফাউন্ডেশনের এমন আয়োজন স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
