দুপুরে পেট ভরে ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ বা মাংস খেলেন। খাওয়ার পর মনে হলো, এবার বেশ কয়েক ঘণ্টা নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা দুই ঘণ্টা পেরোতেই হঠাৎ বিস্কুট, চানাচুর, মিষ্টি কিংবা অন্য কোনো নাশতার জন্য মন কেমন করছে। তখন অনেকেই ভাবেন, এতক্ষণ আগেই তো খেয়েছি, আবার ক্ষুধা লাগছে কেন?
এটি সবসময় বেশি খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হয় না। বরং দুপুরের খাবার দেখতে যতই পরিমাণে বেশি হোক, তাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
ভারতের বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান ডা. সন্ধ্যা সিং এস-এর মতে, দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবারসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের যথাযথ ভারসাম্য থাকা জরুরি। শুধু পেট ভরলেই খাবারটি দীর্ঘ সময়ের জন্য তৃপ্তি দেবে এমন নয়। তাহলে দুপুরের খাবারের পর দ্রুত ক্ষুধা লাগার পেছনে কী থাকতে পারে? বিশেষজ্ঞের মতে, চারটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ।
১. খাবারে প্রোটিন কম থাকা
প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমাতে পারে। দুপুরের খাবারে শুধু ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি থাকলেও প্রোটিনের উৎস কম থাকলে খাবারের পর দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। তাই খাবারে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল কিংবা অন্যান্য উপযোগী প্রোটিনের উৎস রাখা জরুরি।
২. ফাইবারের ঘাটতি
সবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও ফলের মতো খাবারে থাকা ফাইবার পেটে খাবারের পরিমাণ বা ‘বাল্ক’ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় থাকে। দুপুরের খাবারে সবজি বা অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খুব কম থাকলে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আবার কিছু খেতে ইচ্ছা করতে পারে।
৩. শুধু কার্বোহাইড্রেটনির্ভর খাবার
অনেকের দুপুরের খাবারের মূল অংশজুড়ে থাকে ভাত, পোলাও, খিচুড়ি কিংবা রুটি। কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগালেও খাবারে যদি প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে, তাহলে সেই খাবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি নাও দিতে পারে।
অর্থাৎ, পেট ভরানোর জন্য শুধু খাবারের পরিমাণ বাড়ানো নয়, খাবারের উপাদানগুলোর ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ফলের জুস ও অতিরিক্ত তরল খাবার
এক গ্লাস ফলের জুস দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও পুরো ফলের তুলনায় এতে ফাইবার কম থাকে। ফাইবার না থাকায় তরল দ্রুত শরীরে শোষিত হতে পারে। পাশাপাশি তরল খাবারে চিবানোর প্রয়োজনও কম, যা খাবার থেকে তৃপ্তির অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তৃষ্ণা মেটাতে বা খাবারের সঙ্গে নিয়মিত জুস পান করার বদলে সম্ভব হলে পুরো ফল খাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
দুপুরের খাবারের পর বারবার ক্ষুধা লাগলে খাবারের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগে একবার প্লেটের দিকে তাকানো যেতে পারে। সেখানে প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য আছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং বারবার খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাও জরুরি। কারণ অনিয়মিত খাবারের সময় ও বারবার খাবার এড়িয়ে চলা ক্ষুধার মাত্রা বাড়াতে পারে।
তাই পরেরবার দুপুরের খাবারের মাত্র দুই ঘণ্টা পর যদি খেতে ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি পুষ্টিকর খাবার খেয়েছেন কিনা সে বিষয়টা ভাবুন। এটা রোগের ইঙ্গিত ভেবে ভাবনার কিছু নেই বরং পুষ্টির দিকে নজর দিন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



