মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫জন কে খালাস প্রদান করেছেন দায়েরা জজ আদালত। বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে এই মামলার রায় দেন দায়েরা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল। রায়ে বলা হয় দন্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হলো। মৃত্যুদন্ডত্ম প্রাপ্রাপ্তরা হলেন মো: নুরুল ইসলাম, মো: সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি, আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসামী নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামীরা প্রবেশ করে নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। তারা চাঁদার পাশাপাশি নাঈমের উপর ফেসবুকে অপপ্রচারের মিথ্যা অভিযোগ আনেন। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত আসামীরা। নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দু’দিন পর ৯ নভেম্বর নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ৩৬৮(১) ধারার বিধানমতে মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীগণের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ বিচারক। আসামী পক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ড.আব্দুল মতিন চৌধুরী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন প্রকৃত আসামীদের দন্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনী সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায়না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কলেজ ছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া, মা সামছুন নাহার ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী করেন তারা। তারা বলেন পলাতক আসামী ও তাদের স্বজনরা নানাভাবে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছেন।
