প্রকৌশল শিক্ষা ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন বুয়েটের সাবেক উপাচার্য- প্রয়াত শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান। বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে তাঁকে মরণোত্তর জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করেছে সরকার।
ড. মোহাম্মদ শাহজাহান ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, সংস্কারক ও সংগঠক। তিনি বুয়েটের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর দুইবার নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও প্রকৌশলীদের পেশাজীবী সংগঠনটির নেতৃত্ব দেন।
১৯৩৯ সালের ২ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ড. মোহাম্মদ শাহজাহান। ১৯৫৪ সালে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষা শেষ করে তৎকালীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে একই প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি প্রবাহবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে প্রকৌশল শিক্ষা ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
১৯৭৪ সালে তাঁর উদ্যোগে বুয়েটে পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বন্যা ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকৌশলভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অক্ষরভিত্তিক গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় এ সংস্কার সেশনজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে প্রকৌশল কর্মী মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও তাঁর বিশেষজ্ঞ ভূমিকা ছিল। অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও পানি সম্পদ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
শিক্ষা, প্রকৌশল ও সমাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন ড. মোহাম্মদ শাহজাহান। তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহার এবং পরবর্তীতে মরণোত্তরভাবে পুনর্বহালের বিষয়টিও তাঁর জীবনের আলোচিত অধ্যায়।
২০০০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন ড. মোহাম্মদ শাহজাহান। মৃত্যুর ২৬ বছর পর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মরণোত্তর গুণী শিক্ষক সম্মাননার জন্য নির্বাচন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের জাতীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
প্রকৌশল শিক্ষা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী সংগঠনে তাঁর অবদান দেশের প্রকৌশল অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিভাগ, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ড. মোহাম্মদ শাহজাহানের কর্মজীবনের প্রভাব এখনও বিদ্যমান।



