ইতালিতে ২০২৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। কৃষি, পর্যটন, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নতুন কোটা ও আবেদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। ফলে বৈধভাবে ইতালিতে কাজের প্রত্যাশায় থাকা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
বিদেশি কর্মীদের জন্য ইতালির সরকারি কোটা ব্যবস্থাটি ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র, শ্রম, কৃষি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সার্কুলারে ২০২৭ সালের কর্মী প্রবেশের কোটা, আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আবেদন শুরু অক্টোবরে
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ৭ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টালে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে। তবে এ সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করলেই আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা হবে না। নির্দিষ্ট ‘ক্লিক ডে’তে আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ১২ জানুয়ারি, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পারিবারিক সহায়তা খাতের কর্মীদের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন জমা দেয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোন খাতে কত কোটা
২০২৭ সালের মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি কোটার মধ্যে ৮৯ হাজার রয়েছে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য। অমৌসুমি চাকরির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৭৬ হাজার ২০০টি কোটা। এ ছাড়া স্বনিয়োজিত কর্মীদের জন্য রাখা হয়েছে ৬৫০টি কোটা।
কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি শ্রমিকের পাশাপাশি অমৌসুমি বিভিন্ন পেশায়ও বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশী ব্যক্তিদের জন্য সংশ্লিষ্ট খাতে বৈধ নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ইতালির এই কর্মী প্রবেশ কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা অংশ নিতে পারেন। তবে একজন বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি আবেদন করে কোটা বা কাজের অনুমতি নিশ্চিত করতে পারবেন না।
সাধারণত ইতালিতে থাকা একজন নিয়োগকর্তা অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিদেশি কর্মীর পক্ষে আবেদন করেন। আবেদন অনুমোদিত হলে কর্মীর জন্য ‘নুল্লা ওস্তা’ বা কাজের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কূটনৈতিক মিশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভিসার আবেদন করতে হয়।
অর্থাৎ শুধু কোটা ঘোষণা হয়েছে বলেই বাংলাদেশ থেকে যে কেউ সরাসরি ইতালির কাজের ভিসা পেয়ে যাবেন, এমনটি নয়। বৈধ নিয়োগকর্তা, চাকরির চুক্তি, নুল্লা ওস্তা এবং ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
দালাল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
কোটা ঘোষণার পর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার আশঙ্কাও থাকে। তাই ইতালিতে যাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেয়ার আগে নিয়োগকর্তা, চাকরির প্রস্তাব, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ‘কোটা নিশ্চিত’, ‘ভিসা নিশ্চিত’ কিংবা ‘টাকা দিলেই ইতালি পাঠানো হবে’ এমন দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ভুয়া নিয়োগপত্র বা নকল নুল্লা ওস্তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আবেদন চলবে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে নির্ধারিত কোটার সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আবেদনকারীদের সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ইতালিতে বৈধভাবে কাজের প্রত্যাশায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এই কর্মী প্রবেশ কর্মসূচি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সুযোগটি কাজে লাগাতে হলে বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নুল্লা ওস্তা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।



