আমেরিকার নিউইয়র্কভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর রবিবার। প্রায় ৩৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি সদস্যের এই সংগঠনের নির্বাচন একটি মর্যাদার লড়াই। নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নির্বাচনে দুইটি প্যানেলে ২১ জন করে ৪২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বসে নেই তাদের সমর্থকেরাও। পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তারা কাজ করছেন। শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় সরগরম এখন বাংলাদেশি কমিউনিটি।

সেলিম-আলী ও কুনু-ফিরোজ পরিষদের ব্যানারে দুই প্যানেলের প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন। ভোট টানতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, বিভিন্ন দেয়াল, সড়কের লাইট পোস্ট ও গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটির কলেবর বেড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। এই বিপুলসংখ্যক ভোটার আগামী মেয়াদের জন্য সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন করবেন। মর্যাদাপূর্ণ এই নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সাধারণ ভোটারের পাশাপাশি প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি পর্দার অন্তরালে কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে নিজেদের ভোট ব্যাংক তৈরি করেছেন। এমন নজির অতীতেও দেখা গেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। যে প্যানেল বেশি ভোটার নিবন্ধিত করেছেন জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ভারী। অবশ্য অর্ধ শতাব্দী বয়সী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি আজও প্রত্যাশার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা বিজয়ী হলে সংগঠনটিকে সেই কাঙ্খিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সঠিক নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে তারা সাধারণ সদস্যদের আস্থা অর্জন করতে চান। নির্বাচন কমিশনসূত্র জানায়, বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে দুইটি প্যানেল থেকে ২১ জন করে ৪২ জন প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবু নাসের।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী খোকন, বদরুল হোসেন খান, শামসুদ্দীন আজাদ, মিয়া মোহাম্মদ দুলাল ও মিঠু হামিদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিক্রি বাবত মোট আয় হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার।

সেলিম-আলী পরিষদ
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর নির্বাচনে সেলিম-আলী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মহিউদ্দীন দেওয়ান, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. কামরুজ্জামান কামরুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হারুন তোফাজ্জল, কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী মফিজুল হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ডিক্কি খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী অনিক রাজ , প্রচার ও গণসংযোগ সম্পাদক পদপ্রার্থী রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মনসুর আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী রোমানা আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী এসএম মঈন উদ্দীন বুলবুল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহনাজ হোসেন এবং কার্যকারী সদস্য পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর পলীন সোহরাওয়ার্দী, মো. উজ্জ্বল, সারওয়ার খান বাবু, মো. এ মান্নান, শামীম আহমেদ, মো. আব্দুল খালেক খান ও কাজী রফিদুজ্জামান।

কুনু-ফিরোজ প্যানেল:
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি দুলাল বাহাদুর, সহসভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়া, সহসাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুশদী আহমেদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সাঈদ গাউছুল আলম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক বাবুল আকতার, ক্রীড়া সম্পাদক মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাঈন উদ্দীন নান্টু, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের চৌধুরী, যুব ও আইটিবিষয়ক সম্পাদক কাজী হাসান এবং কার্যকরী সদস্য সিরাজুদ্দৌলা হক, এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি, প্রফেসর আব্দুল বাসির, মাছুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কায়সার আলম ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ রাব্বী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *